সংবিধান সংশোধনে শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার স্বীকৃতির দাবি

সংবিধান সংশোধনে শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক শ্রেণির প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন তাদের প্রতিনিধিরা। এসব প্রস্তাব কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে বলে তাদের আশ্বস্ত করেছে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি।

রবিবার (৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির পঞ্চম বৈঠকে শ্রমজীবী মানুষ এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হয়।

কমিটি সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা শ্রমজীবী মানুষ এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাব দেন। বৈঠকে জানানো হয়, আলোচনার বাইরে কারও লিখিত প্রস্তাব থাকলে তা কমিটির কাছে পাঠানো যাবে এবং বৈঠকে উত্থাপিত ও লিখিতভাবে পাওয়া প্রস্তাবগুলো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে।

শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) লিখিত প্রস্তাবে বলা হয়, শিল্প-কারখানা, কৃষি, পরিবহন, বন্দর, সরকারি-বেসরকারি কর্মক্ষেত্রসহ অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রমজীবী মানুষের সরাসরি অবদান রয়েছে। তাই তাদের শুধু শ্রমশক্তি হিসেবে নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের একটি মৌলিক সামাজিক শক্তি হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে শ্রমজীবী মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু তাদের অবদানের তুলনায় রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে প্রতিনিধিত্ব পর্যাপ্ত নয়। এ অবস্থায় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা, প্রতিনিধিত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছে স্কপ।

বৈঠকে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও তাদের পরিচয়, অধিকার, মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্বের বিষয় তুলে ধরেন। ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রতিনিধি জন ক্রুশ উয়েল আশা প্রকাশ করেন, কমিটি এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

বৈঠক শেষে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদ্যমান সংবিধান, জুলাই সনদে থাকা সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত দফাগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে।

পরবর্তী বৈঠকগুলোতে নারী নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও সংগঠন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও আইনজীবী, শিক্ষক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হবে। সবার মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে কমিটি।

কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান, সাকিলা ফারজানা ও মো. মাহমুদুল হক রুবেল উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ আমন্ত্রণে সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, আন্না মিনজ ও মাধবী মারমা বৈঠকে অংশ নেন।