‘তিন বছরের মধ্যে সরকারি রাস্তা-ভবন নষ্ট হলে দায় ঠিকাদারের’

সরকারি অর্থায়নে নির্মিত রাস্তা, ভবন বা অন্য কোনও অবকাঠামো তিন বছরের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকেই তা মেরামত করে দিতে হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করতে চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঠিকাদার তা মেরামত করতে বাধ্য হন।’

বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রকল্প নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একনেকের পর্যবেক্ষণ ও শর্ত যুক্ত করার পর এসব প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন হবে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। প্রকল্প ঋণ থেকে আসবে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।’

তিনি বলেন, যেকোনও অবকাঠামো বা রাস্তাঘাট নির্মাণের ক্ষেত্রে এর স্থায়িত্ব ও গুণগত মান সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। তিন বছরের মধ্যে গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে সেটি ঠিক করে দিতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ম ও গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডে সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের প্রকল্প নিয়েও একনেক সভায় পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন এলাকায় সড়ক ও ড্রেনেজের পাশাপাশি স্যুয়ারেজ লাইনও নির্মাণ করা হবে। তবে সেই স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা যদি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের (এসটিপি) সঙ্গে সংযুক্ত না হয়, তাহলে অপরিশোধিত বর্জ্য আবারও নদীতে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘এ কারণে দুই বছরের মধ্যে এসটিপি সংযোজন এবং সংযোগকারী লাইন নির্মাণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসটিপি ও সংযোগব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হবে।’

রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনের প্রকল্পও একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘রংপুর সিটি করপোরেশনের আওতায় নতুন কিছু এলাকা যুক্ত হয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সড়ক, ড্রেনেজ ও অন্যান্য অবকাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি। এসব এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।’

তবে রংপুর সিটি করপোরেশনসহ পুরো জেলার জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলমান থাকায় নতুন প্রকল্প যেন ভবিষ্যৎ মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, সে বিষয়ে শর্ত দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই রংপুরের এসব অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।’