মন্ত্রী বললেন বাবা শোনো, বিক্ষোভকারী বললেন ‘এখানে দেশ বিক্রি হচ্ছে, ঢুকতে দেবো না’

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করেছেন সিপিবি, বাসদসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা। এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের গাড়িবহর চুক্তির অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বাধার মুখে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা দেড়টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ের (সাবেক বিডা) সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিমানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে যোগ দিতে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা তার গাড়ি ও বহর আটকে দেন এবং সেখানে স্লোগান দিতে থাকেন। এ নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে তাদের কিছুটা বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কার্যালয়ে না ঢুকে মন্ত্রী গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যান। 

এরই মধ্যে বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বাগবিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মন্ত্রীকে কথা বলতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানমন্ত্রীর গাড়িবহরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন বিক্ষোভকারীরা। সেইসঙ্গে স্লোগান দিচ্ছেন তারা। এ অবস্থায় গাড়ির গ্লাস নামিয়ে বিক্ষোভকারীদের কাছে মন্ত্রী জানতে চান, ‘তোমরা কি করতে চাও?’

সিপিবি-বাসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে লাঠিচার্জ করে পুলিশ

বিক্ষোভকারীদের একজন জবাব দেন, ‘আপনি যেই মন্ত্রণালয়ের হন না কেন, আজকে এখানে দেশ বিক্রি হচ্ছে। আজকে কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেবো না। আপনি চলে যান।’

এরপরই স্লোগান দেওয়া হয়, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে জিততে চাই।’ তখনও মন্ত্রীর গাড়িকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় সেখানে।

এরপর বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন, ‘এখানে আর কোনও কথা বলার সুযোগ নাই। কথা বলার জায়গা নাই। আপনারা যদি বাংলাদেশের পক্ষে থাকেনও আজ এখানে আপনারা ঢুকতে পারবেন না।’

এ সময় পাশ থেকে আরেকজন বলেন, ‘আপনি এসেছেন কেন? আপনারা সবার আগে যে বাংলাদেশ বলেন না- আমরা সেই বাংলাদেশের জন্য এখানে দাঁড়াইছি।’ 

তার জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বাবা শোনো; তোমরা একজন করে বলো।’ তখন পাশ থেকে একজন বলেন, ‘আপনি বলেন আমরা শুনি।’ তখন মন্ত্রী বলেন, ‘আমি যে কাজে এসেছি, সে কাজ করতে দাও। তোমরা কি আমার কাজ বন্ধ করতে চাও। আমার কাজ বন্ধ করতে চাও নাকি? আমি যে কাজে এসেছি, তা করতে দাও।’ এর জবাবে আরেকজন এগিয়ে গিয়ে বলেন, ‘আপনি যে কাজেই এসেছেন, আজ এখানে ঢুকতে পারবেন না।’ এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে তখন গাড়ি ঘুরিয়ে অন্য দিকে চলে যান বিমানমন্ত্রী।

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়

এরপর বিকাল পৌনে ৩টার দিকে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করা সিপিবি, বাসদসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ওই কার্যালয়ে কোম্পানিটির সঙ্গে বন্দরের কনসেশন চুক্তি সই হয়েছে ১৫ বছরের জন্য। 

লাঠিপেটার সময় সেখানে উপস্থিত সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ‘আমরা আজ সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই বিডা ভবনের সামনে এসেছিলাম। আমরা মনে করি, এ চুক্তি বাংলাদেশকে বিক্রি করার শামিল। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সম্পৃক্ততা আছে, তাদের ওয়েবসাইটে গেলে বিষয়টি বোঝা যাবে। এর প্রতিবাদ জানাতে আমরা এখানে এসেছি। আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ছিল। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশ বিনা উসকানিতে লাঠিপেটা করেছে। এতে আমিসহ অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছি।’