জার্মানির রাজধানী বার্লিনে আজ রবিবার (১১ অক্টোবর) শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন ‘ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট ২০২৬’। সম্মেলনে বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি কর্মসূচি বাতিল করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।
সম্মেলন আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে দুজন অতিথির ১১ ও ১২ অক্টোবর পৃথক দুটি অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। সম্মেলন চলবে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত।
সম্মেলনের যোগাযোগ ও প্রেস বিষয়ক পরিচালক আনা স্টর্মার জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যগত কারণে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবারের সম্মেলনে যোগ দিতে পারছেন না। সিনিয়র কমিউনিকেশন ম্যানেজার ম্যারি অলফও একই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যগত কারণে ড. ইউনূস নিজেই কর্মসূচি বাতিল করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোর্শেদের কাছে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কিছু জানাননি।
আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্মেলনে ড. ইউনূসের গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেড নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। তার সেই কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সম্মেলনের বক্তা হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমানের নাম রয়েছে। আয়োজকদের তথ্যে বলা হয়েছে, চিকিৎসক হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জনস্বাস্থ্য সংস্কার, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং দেশজুড়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যেও তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘সংকট থেকে স্থিতিস্থাপকতা: স্বাস্থ্যের জন্য উদ্ভাবন’। বিশ্ব স্বাস্থ্যব্যবস্থার বর্তমান সংকট, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে, তিন সপ্তাহ আগে ইউরোপের পাঁচটি আন্তর্জাতিক সংগঠন বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিটে ড. ইউনূসের অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনার দাবিতে স্মারকলিপি ও পিটিশন পাঠিয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। সংগঠনগুলো হলো সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম, বেলজিয়াম; ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য; ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ ইন জার্মানি; আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক এবং ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স।
পিটিশনকারীদের বক্তব্য, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন, টিকার প্রাপ্যতা ও সরবরাহ এবং জরুরি টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে যেসব প্রশ্ন উঠে এসেছে, সেগুলো স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূস এ ক্ষেত্রে নিজের দায় এড়াতে পারেন না বলেও দাবি করেন তারা।
সামিট আয়োজকদের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছিল সংগঠনগুলো। এগুলো হলো, ড. ইউনূসকে বিশেষ বক্তা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা, আমন্ত্রণ বহাল থাকলে বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে তাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, শিশু চিকিৎসক ও স্বাধীন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা।