চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমুদ্র খাতের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। সমুদ্র, নদী ও জলসম্পদের সম্ভাবনাকে মানবকল্যাণ ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল মেরিন অ্যান্ড অফশোর এক্সপো (বিআইএমওএক্স) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সমুদ্র খাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বে-টার্মিনাল প্রকল্পে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি কনটেইনার টার্মিনাল অপারেটর কোম্পানির মধ্যে তিনটিকে বাংলাদেশে আনতে সক্ষম হয়েছেন তারা। ডেনমার্কের এপি মোলার-মার্স্ক লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে কাজ করছে। সিঙ্গাপুরের পিএসএ এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
বন্দরগুলোর উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম জানান, চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের কার্যক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মাতারবাড়িতে আন্তর্জাতিক মানের গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে। পাশাপাশি পায়রা সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে।
সমুদ্রসম্পদ ব্যবহারে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সমুদ্র জয় এবং সমুদ্রের সব সম্পদ জনবান্ধব ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। যত্রতত্র বা অনিয়মিতভাবে সম্পদ আহরণ না করে সমন্বিত কাঠামোর মাধ্যমে এগোতে হবে।
সমুদ্র ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, পৃথিবীর ৭০ শতাংশই জলরাশি। যারা এই জলরাশি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারছে, তাদের জন্য এটি সম্পদে পরিণত হচ্ছে। আর যারা পারছে না, তাদের জন্য তা অভিশাপ হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান। তবে উপকূলীয় বিশাল সম্ভাবনা ও বিচ এলাকার পূর্ণ ব্যবহার এখনও শতভাগ করতে পারিনি।
সমুদ্র খাতের উন্নয়ন ও সম্ভাবনা কাজে লাগানোর প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী ইশতেহারেও স্পষ্ট করা হয়েছিল বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত আইসিসিবিতে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে জাহাজ নির্মাণ, শিপ রিসাইক্লিং, অফশোর অয়েল অ্যান্ড গ্যাস, লজিস্টিকস এবং প্রসেস অটোমেশনের বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে।