আন্দোলন করে সরকার পরিবর্তন নয়, নির্বাচনই একমাত্র পথ: চিফ হুইপ

আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন কিংবা সরকার গঠন করা যায় না, এর একমাত্র গণতান্ত্রিক পথ নির্বাচন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জনগণকে জিম্মি করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার ভালো কাজ না করলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণই ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দেবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের আন্দোলন ও কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে চিফ হুইপ বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু নিজেদের মধ্যে বিরোধ ও সংঘাত তৈরি করলে তার সুযোগ নেবে অন্যরা। সবাইকে দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, “আমরা চাই দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকুক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ভালো কাজ করলে জনগণ তার সুফল পাবে। আর সরকার ভালো কাজ করতে না পারলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে। একটি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

রাজনৈতিক বিরোধের পরিণতি বোঝাতে দুই ভাইয়ের ঝগড়ার উদাহরণ দিয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “আমরা নিজেরা ঝগড়া করার পর পথ সুগম হবে কার? যারা আমাদের বিভক্ত দেখতে চায়, তাদের। দুই ভাই যখন ঝগড়া করে, তখন পাশের বাড়ির লোক সালিশ করতে আসে; কিন্তু সেই সুযোগে সে দুই ভাইয়ের সম্পত্তিই কিনতে চায়।’’

জ্বালানি সংকট ও সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। অথচ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলার অপচেষ্টা হচ্ছে। কিছু মানুষ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারকে এবং দেশের ২০ কোটি মানুষকে জিম্মি করতে চায়।

তিনি বলেন, ‘‘৫৪ বছরে দেশ অনেক সময় নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে। এখন দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সময়। দেশ ধ্বংস হলে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে জবাব দিতে হবে।’’

ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উদ্দেশে চিফ হুইপ বলেন, ‘‘দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দক্ষ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। বরিশাল বিভাগের সার্বিক উন্নয়নেও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’’

প্রকৌশলীদের যৌক্তিক দাবির বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা দেশ গড়ার কারিগর। আপনাদের মেধা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। আপনাদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করব এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব।’’

অনুষ্ঠানে আইডিইবির নেতারা ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।