পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে দেশকে অস্থিতিশীল করার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ডিসেম্বরকে সামনে রেখে শ্রমিকদের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, এমন একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র-চক্রান্তে লিপ্ত। সরকার রাজনৈতিকভাবে তা মোকাবিলা করবে।
রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পোশাক খাতের অস্থিরতা নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠন এবং শিল্পকারখানা সঠিকভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে মূল লক্ষ্য জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্থিতিশীল পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ডিসেম্বরকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলের এসব... যারা শ্রমিকের সঙ্গে না, তারা বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে... আপনারা জানেন ফ্যাসিবাদের সেই শক্তি আবার বিভিন্ন ষড়যন্ত্র-চক্রান্তে লিপ্ত। তো ইনশাল্লাহ, আমরা রাজনৈতিকভাবে সেটা মোকাবিলা করবো।’
বৈঠকে শিল্পকারখানা যেন সঠিকভাবে চলে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বজায় থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার কথাও জানানো হয়।
এর আগে রবিবার ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ কয়েকটি দাবিতে সাভার, গাজীপুর ও রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাভার ও গাজীপুরের অন্তত ৮০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে সাভারে অর্ধশতাধিক এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অন্তত ৩০টি কারখানা রয়েছে।
রাজধানীর মিরপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১১ এলাকায় সংঘর্ষের সময় দোকান ও যমুনা ব্যাংকের কাচ ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া মেট্রোরেলের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। দুপুর ২টার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিকেরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিয়ে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দেন। অন্যদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউন ও একটি পিকআপভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।