শ্রমিক ইউনিয়ন থাকলে রানা প্লাজায় এত প্রাণহানি ঘটতো না: এইচআরডব্লিউ

এইচআরডব্লিউ

সাভারের রানা প্লাজার কোনও গার্মেন্ট কারাখানায়ই শ্রমিক ইউনিয়ন ছিল না। যদি ওইসব কারখানায় শ্রমিকদের সংগঠন থাকতো তাহলে  ফাটল দেখা দেওয়ার পরও জোর করে তাদের সেখানে কাজ করানো যেত না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই কথা বলেছে।

রানা প্লাজা ধসের তিন বছর পরও বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিক সংগঠন করার বিষয়ে দমনপীড়নের, এমনকি কারখানার পক্ষ থেকে হুমকিরও শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে এইচআরডব্লিউ। বাংলাদেশের সাড়ে চার হাজার গার্মেন্ট কারখানার মধ্যে কেবল ১০ শতাংশ কারখানায় নিবন্ধিত শ্রমিক সংগঠন রয়েছে বলেও জানায় তারা। শ্রমিক সংগঠন করার ব্যাপারে আইনি ও বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করার পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।     

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ১১০০ এরও বেশি গার্মেন্ট শ্রমিক নিহত হন। আহত হন কয়েক হাজার। ভবনটিতে কয়েকটি গার্মেন্ট কারখানায় পাঁচ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করতেন।  

রানা প্লাজা

এইচআরডব্লিউ জানায়, রানাপ্লাজা ধসের পর শ্রম আইন সংস্কারের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) প্রতিশ্রুতি দেয় বাংলাদেশ সরকার। তবে এখনও বাংলাদেশে শ্রমিক ইউনিয়ন করার ব্যাপারে কঠোর নীতিমালা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ফিল রবার্টসন প্রতিবেদনে বলেন, ‘রানাপ্লাজার গার্মেন্ট কারখানাগুলোয় শ্রমিক ইউনিয়ন থাকলে শ্রমিকরা হয়তো ফাটল দেখা দেওয়ার পরও ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনে কাজ করতে বাধ্য করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারতেন।।

বাংলাদেশে অনেক গার্মেন্ট কারখানাতেই শ্রমিকরা নিজেদের ইউনিয়ন করার চেষ্টা করলেও কর্তৃপক্ষ বারবার তাতে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করে এইচআরডব্লিউ। ইউনিয়ন করার চেষ্টা করায় শ্রমিকদের শারীরিক নির্যাতন, ভয় দেখানো ও হুমকি, মিথ্যা অভিযোগসহ অনেকভাবে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলেও জানায় তারা। বাংলাদেশ সরকার এসবের জন্য গার্মেন্ট কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিতেও ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে এইচআরডব্লিউ।

আরও পড়ুন- ৩০ হাজার ডলারে এফবিআই-এর তথ্য কিনেছিলেন এক বাংলাদেশি সাংবাদিক

বাংলাদেশের গার্মেণ্ট পণ্যের প্রধান ক্রেতা হিসেবে ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাকে এব্যাপারে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশকে দেওয়া বিশেষ সুবিধা তুলে নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
ফিল রবার্টসন বলেছেন, ‘স্বাধীন শ্রমিক সংগঠনে বাধা দেওয়ার প্রবণতা শ্রমিক ও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর হুমকিস্বরূপ। নিবন্ধিত ইউনিয়নের মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার চর্চার সুযোগ দেওয়া এবং এসব ইউনিয়নকে দমনকারী গার্মেন্ট মালিকদের শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য বাংলাদেশের কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন- ‘বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধন কোনও রাজনৈতিক ইস্যু নয়’

ছবি (রানা প্লাজা): নাসিরুল ইসলাম। 

/এফএস/এপিএইচ/