সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া, মতিঝিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে নতুন ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে। ছোট সাইজের সুদৃশ্য ডাস্টবিনগুলো অনেকেরই নজর কেড়েছে। ডাস্টবিনের গায়ে লেখা আছে- ‘বর্জ্যগুলো বিনে ফেললেই পরিষ্কার থাকবে আপনার শহর। বিনীত অনুরোধে সাঈদ খোকন, মেয়র, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। পরিচ্ছন্ন ঢাকা, সবুজ ঢাকা’।
দেখা গেছে, নতুন স্থাপিত ডাস্টবিন অনেকে ব্যবহারও করছেন। গুলিস্তান কমপ্লেক্সের ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী রিপন বলেন, ‘এ ধরনের ডাস্টবিন নগরীর নতুন সংস্করণ। ভালোই হয়েছে। ময়লা আবর্জনা আগে রাস্তার ধারে ফেলতাম, এখন ডাস্টবিনে ফেলার অভ্যাস করছি।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা আবদুস সালাম বলেন, ‘এসব ডাস্টবিনে তো হাতের বর্জ্য রাখা যাবে। কিন্তু সড়কের মধ্যে বড় বড় কন্টেইনারে যেভাবে গৃহস্থালী ও বাজারের বর্জ্য রাখা হয় তার কি হবে?’
তিনি বলেন, ‘বর্জ্য ফেলতে নতুন ডাস্টবিন স্থাপনের আইডিয়াটা অবশ্যই ভালো। তবে সড়কের কন্টেইনারও যাতে সরিয়ে নেওয়া হয় সে ব্যবস্থাও করা দরকার।’
ফুটপাতে ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনোয়ার হোসেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। মানুষের সিভিক সেন্স বাড়াতে এই ডাস্টবিন কাজে লাগবে। তবে এসব ডাস্টবিন যাতে হালকা বর্জ্যের জন্য ব্যবহার হয় এবং গৃহস্থালী বর্জ্য যাতে কেউ এখানে ফেলতে না পারে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির অগ্রগতি নেই: যুক্তরাজ্য
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, রাস্তা দিয়ে চলাফেরার সময় যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলা অনেকেরই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কেউ হয়তো হাঁটতে হাঁটতে চিপস খাচ্ছেন, খাওয়া শেষে চিপসের প্যাকেটটি রাস্তার একদিকে ছুড়ে ফেলে দিলেন। কেউ ফেললেন সিগারেটের শেষাংশটি। বাদামের খোসা, বিস্কুটের প্যাকেট ইত্যাদির স্থানও হয় ফুটপাত কিংবা সড়কের বুকে। এক সময় নোংরা হয়ে পড়ে নগরীর রাস্তা-ফুটপাত।
প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. রকিবউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাজপথ পরিচ্ছন্ন রাখতে এবার প্রধান সড়কের ফুটপাত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্টিলের ছোট ছোট ডাস্টবিন স্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে রাস্তায় চলাফেরার সময় যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলার দিনও শেষ হয়ে আসছে। আগামী মাসের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় পাঁচ হাজার ৭০০ ডাস্টবিন স্থাপনের কাজ শেষ হবে। আশা করি মানুষ এগুলো ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে।’
তিনি বলেন, ‘ডিএসসিসির ৫৭টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে কম-বেশি ১০০টি বিন স্থাপন করা হবে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ৭০০ বিন স্থাপন করা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে তিন হাজার বিন স্থাপন করা যাবে। মে মাসের মধ্যে সব বিন স্থাপন সম্পন্ন হবে। বিষয়টা নতুন। তাই এটা ব্যবহারে মানুষের অভ্যাস গড়ে তুলতে একটু সময় লাগবে।’
ডিএসসিসির প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনী এসব ওয়েস্ট বিন সরবরাহ করছে। নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে এগুলো তৈরি করা হয়েছে। নৌবাহিনীর লোকজনই এগুলো সড়কের ধারে স্থাপন করে দিচ্ছে।’
আরও পড়ুন: ‘প্রশ্ন ফাঁস কিভাবে সামলাবো?’
তিনি বলেন, ‘স্থাপন, ভ্যাট ও আয়করসহ প্রতিটির দাম পড়ছে প্রায় আট হাজার টাকা। প্রথম চালানে দুই সাইজের পাঁচ হাজার বিন দিয়েছেন তারা। ভবিষ্যতে তারা বর্জ্যের শ্রেণী অনুযায়ী বিভিন্ন রঙের ডাস্টবিন স্থাপন করে দেবেন। যেমন- সাধারণ বর্জ্য, চিকিৎসা বর্জ্য ও কাচের বর্জ্য ফেলতে পাশাপাশি আলাদা ডাস্টবিন রাখা হবে।’
ছবি: নাসিরুল ইসলাম
/এজে/