সাড়ে ৪ বছরে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৪৬ বাংলাদেশি

জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বগত সাড়ে ৪ বছরে সীমান্তে ১৪৬ জন বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসিএফের হাতে নিহত হয়েছেন ১০৯ জন এবং ভারতীয় নাগরিকদের হাতে নিহত হয়েছেন ৩৭ জন।
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে সোমবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এ তথ্য জানান।
মন্ত্রীর তথ্য মতে, ২০১২ সালে সীমান্তে ৩৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএসএফের হাতে নিহত ২৪ জন এবং ভারতীয় নাগরিকের হাতে নিহত হন ১০ জন। ২০১৩ সালে বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিকের হাতে যথাক্রমে ১৮ জন ও ১০ জন, ২০১৪ সালে ২৪ জন ও ১৬ জন, ২০১৫ সালে ৩৮ জন ও ১ জন এবং চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত বিএসএফের হাতে ৫ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি সীমান্তে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে সীমান্তে বিচ্ছিন্নভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটেই চলছে।
আরও পড়ুন: তার একটাই দোষ তিনি বুদ্ধিজীবী
তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা চেষ্টা বন্ধের প্রচেষ্টা হিসেবে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী প্রাণঘাতি অস্ত্রের বদলে রাবার বুলেটের অস্ত্রের ব্যবহার করছে। এ ছাড়া গত বছরের আগস্টে অনুষ্ঠিত দ্বি-পক্ষীয় বৈঠকে বিএসএফের মহাপরিচালক সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে একমত হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সীমান্ত হত্যা এড়িয়ে চলতে বাংলাদেশিদের ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ না করার আহ্বান জানান। বিজিবির মহাপরিচালক কোনও বাংলাদেশি আটক হলে তাকে হত্যা না করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করার অনুরোধ জানান। এর অংশ হিসেবে বিজিবির হাতে আটক ২০১৪ সালে ২০৯, ২০১৫ সালে ১৭৪ এবং চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৪০ জন ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তায় কোস্টগার্ডের জলযান ও জনবলের স্বল্পতা রয়েছে। তবে সরকার ২০২০, ২০২৫ ও ২০৩০ সালের মধ্যে কোস্টগার্ডকে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাহিনীতে পরিণত করা হবে। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের মধ্যে কোস্টগার্ডের বহরে ৯টি জাহাজ ও ৬টি বোট যুক্ত হবে। এতে নদী ও সাগরে বাংলাদেশের মৎস্য শিকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

হাজী মো. সেলিমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নাজিম উদ্দিন রোড থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের পর জাতির পিতা ও জাতীয় চার নেতা স্মৃতি জাদুঘর জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
আরও পড়ুন: ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে প্রথমবার পাঁচ নম্বরে বাংলাদেশ: পাপন

ইএইচএস/এজে