কুকুর নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন মিথিলা শারমিন চৈতি। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ৬ বছর ধরে কুকুর পুষি। আমার এলাকায় প্রায় ৫০০টি কুকুর আছে, যার মধ্যে আমি ৩৫টি কুকুরের দেখাশুনা করি। একজন মানুষ অন্য মানুষের ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু বন্ধুসুলভ এই প্রাণী কখনও মানুষের ক্ষতি করে না। আমার বাসায় কুকুর থাকার কারণে আমরা অনেক নিরাপদ বোধ করি।’ তিনি মনে করেন, এ প্রাণীকে কাজে লাগানোর জন্য একটি জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করলে, এদেরকেও কাজে লাগানোর অনেক বড় সুযোগ রয়েছে।
এ সময় তিনি ‘জীবজন্তুর প্রতি নিষ্ঠুরতা আইন ১৯২০ সাল’কে আরও আধুনিক করার তাগিদ দেন।
এদিকে, ২০১৫ সালে হাইকোর্টের রিট পিটিশনের ভিক্তিতে আপাতত কুকুরনিধন বন্ধ থাকলেও, পরিবেশ বান্ধব কুকুরের ওপর সহিংসতা কমছে না বলেও অভিযোগ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জলাতঙ্ক সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ১৬ লাখ বেওয়ারিশ কুকুর আছে। যার মধ্যে প্রায় ১৭ ভাগ পোষা কুকুর এবং প্রায় ৮৩ ভাগ বেওয়ারিশ কুকুর আছে। অর্থাৎ প্রায় ১৪ লাখ কুকুর বেওয়ারিশ। এ প্রাণীকে কাজে লাগানোর জন্য একটি জাতীয় পরিকল্পনার আওতায় আনা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘বুদ্ধিমান ও অনুভূতি প্রবল প্রাণীর আরেক নাম হচ্ছে কুকুর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দীর্ঘদিন থেকে নিরাপত্তার কাজে কুকুরকে ব্যবহার করে আসছে।’
কুকুরকে কাজে লাগানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও প্রাকৃতিক দূর্যোগে কুকুরকে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন, কুকুরকে সার্ভিস ডগ ও মেডিক্যাল সার্ভিস ডগ হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সার্ভিস ডগের কাজটা হচ্ছে, তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে মানুষের কাজে ব্যবহার করা। যেমন, নিরাপত্তা প্রহরীর, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বে তারা বুঝতে পারে কখন দূর্যোগ হবে। আবার অন্ধ মানুষের কাজে ও মৃগ রোগীদের কাজেও ব্যবহার করা হয় এ প্রাণীটিকে।’
জলাতঙ্ক সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ আরও বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে কুকুর নিধন করলে জলাতঙ্ক রেগোর ঝুঁকি বাড়ে। তাই বাংলাদেশে ১৬ লাখ কুকুরের মধ্যে কোনও কুকুরের জলাতঙ্ক হলে এর জন্য আমরাই দায়ি। তাই সিটি করপোরেশন যখন কুকুর নিধন করে, সেটাকে আমি বলি, অকার্যকর নৃশংসতা।’
কুকুর রক্ষায় আমরা ডগ অর্নারশিপ প্রমোশন ও কুকুরের জন্ম নিয়ন্ত্রণে ডগ পপুলেশন পলেসি’র কার্যক্রম গ্রহণ করেছি।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধ্যাপক ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির আওতায় আমরা চারটি কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। যার মধ্যে, মানুষের আধুনিক জলাতঙ্ক প্রতিরোধক ব্যবস্থা ও টিকা দান, কুকুরকে র্যা বিসিন ভ্যাকসিন প্রদান, জনসচেতনতা তৈরি ও একটি এলাকার কুকুরের বন্ধা কার্যক্রমের মাধ্যমে ডগ পপুলেশন ম্যানেজমেন্ট(ডিপিএম)এর আওতায় আনা।’
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী জলাতঙ্ক রোগে ২০১০ সালে মানুষ মারা গেছে ১০৪ জন, ২০১১ সালে ১০৯ জন, ২০১২ সালে ৮৮ জন, ২০১৩ সালে ৮৬ জন, ২০১৪ সালে ৯৭ জন এবং ২০১৫ সালে ৬৪ জন।
/এনএস/