তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিআইডির একটি সমন্বিত দল ম্যানিলায় পৌঁছেছে। আজ ৩০ মে থেকে সেখানে ইন্টারপোল আয়োজিত তিন দিনব্যাপী একটি বৈঠকে অংশ নেবেন তারা। এতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ১১টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বৈঠকটি ডাকা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে।
সিআইডির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ছাড়াও রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনাটি এরইমধ্যে ইন্টারপোল ও এফবিআই তদন্ত শুরু করেছে। বাংলাদেশও এ বিষয়ে তাদের সহায়তা কামনা করেছে। বিশেষ করে যেসব দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনার আলামত রয়েছে তাদের একত্রিত করার মধ্য দিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে চায় সিআইডি।অর্থ চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যেসব বিদেশি নাগরিকের সম্পদ জব্দ ও রেড ওয়ারেন্ট জারির অনুরোধ করা হয়েছে তারা হচ্ছেন জাপানের সাসাকিম তাকাশি, জয়দেবা, আরসিবিসির জুপিটার শাখার ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতো, এনজেলা তেরেস, মাইকেল ফ্রান্সিসকো ক্রুজ, জেসি লাগোরাস, আলফ্রেড ভারগারা, এনরিকো তায়েদ্রো ভাসকুয়েজ, কিম ওং, স্ট্রুইড বাতিষ্ট্রা, ফিলিপাইনের ব্যবসায়ী উইলিয়াস গো সো, শ্রীলংকার এনজিও শালিকা ফাউন্ডেশনের গামাজ শালিকা পেরেরা, সানজেবা টিসা বান্দরা, শিরানি ফার্নান্দো, ডন প্রসাদ রোহিতা, নিশান্তা নালাকা, ওয়ালাকরুয়ারাচি প্রমুখ। এছাড়া শালিকা ফাউন্ডেশন ও আরসিবিসি ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে সংশ্লিষ্টরা জানান, চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরি করা হয়। তারা হলো- হ্যাকার, মানিলন্ডার, নেগোসেয়িটর ও ইনসাইডার। ইনসাইডার হলো তারাই যারা বাংলাদেশের ভেতরে বসে পরিকল্পিতভাবে কিংবা তাদের গাফিলতির কারণে হ্যাকাররা সহজে সার্ভারে প্রবেশ করার সুযোগ পায়। এরই মধ্যে সিআইডি তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আরও অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এরই মধ্যে এমন কিছু তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে যাতে এটা স্পষ্ট যে, সুইফট কোড সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা ছিলো হ্যাকারদের। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় সুইফটের কোনও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জড়িত কিনা সেটা জানাননি তারা। হ্যাকারদের ম্যালওয়ারের মাধ্যমে আক্রান্ত ৩৫টি ডিভাইস শনাক্ত করেছেন তারা।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার ও রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্ত দলের তদারক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ হেল বাকী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এরইমধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করতেও আজকের বৈঠকে প্রস্তাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তারা। রিজার্ভ চুরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সরাসরি জড়িত থাকার কোনও তথ্য এখনও তারা পাননি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চরম গাফিলতি ও অবহেলা যে ছিলো তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনার তদন্ত করেছে দেশের পাঁচটি সংস্থা। সিআইডি ছাড়াও এই দলে আছে পুলিশ সদর দফতর, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সমন্বিত টিম। অর্থ চুরির ঘটনায় মতিঝিল থানায় দায়ের করা মামলাটির মূল তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খান।
আরও পড়তে পারেন:
আইপিএল-এর সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় মুস্তাফিজ
যানজট এড়াতে বিমানে বাসায় ফিরলেন শাহরুখ
/জেইউ/এমএসএম /