গুলশানের ক্যাফে হলি আর্টিজান থেকে উদ্ধারকৃত ১৩ জনের মধ্যে আটজনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। বাকি পাঁচজনসহ আরও বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। তাদের বিষয়ে তথ্য যাচাইবাছাই করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গোয়েন্দা পুলিশের সূত্র আরও জানায়, ক্যাফের ১৩ স্টাফকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে সেনাবাহিনী। পরে তাদের উদ্ধার করে ডিবিতে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যারা সন্তোষজনক উত্তর দিয়েছে তাদের পরিবারকে ম্যাসেজ দিয়েছে ডিবি। এরপর বিকালে এমন পাঁচজনকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অপরদিকে আর যারা হামলার সময় আহত হয়েছিল, তাদের সিএমএইচ, ইউনাইটেড ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পুলিশ নজরদারিতে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ক্যাফেটির শেফ সহকারী শাহরিয়ার আহমেদ সেরুর (২৪) চাচা ইব্রাহীম আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা বিকালে সেরুকে নিয়ে এসেছি। ডিবি থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। সেনাবাহিনী যখন আক্রমণ করে তখন সেরু টয়লেটে ছিল। সেরুকে ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে এখন সে ঘুমাচ্ছে।
ডিবি সূত্রটি বাংলা ট্রিবিউনকে আরও জানায়, উদ্ধারকৃত ১৩ জনের মধ্যে তিনজন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। পরে আরও পাঁচজনকে বিকালে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাকিদের ও গ্রেফতারকৃত একজন হামলাকারী এবং গুলশান থেকে আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্স পরিদফতরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাঈম আশফাক চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, অভিযানের সময় ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন বিদেশি নাগরিক। এর মধ্যে দু’জন শ্রীলঙ্কার ও একজন জাপানের নাগরিক।
ক্যাফেটিতে শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয় ‘অপারেশন থান্ডার বোল্ট’। সকাল ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত গুলির ও সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দ পাওয়া যায়। তবে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অভিযানের ১৩ মিনিটেই ছয়জন ঘটনাস্থলে মারা যায়। সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাত পৌনে ৯টায় ক্যাফেটিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। তাদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। হামলাকারীরা ক্যাফের ভেতরে বিদেশি ও দেশি নাগরিকদের জিম্মি করে। সকালে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতদের মধ্যে ৯ জন ইতালিয়ান, সাতজন জাপানি, একজন ভারতীয় এবং দুইজন বাংলাদেশি। নিহত হয়েছে হামলাকারী ছয়জনসহ মোট ২৮ জন।
- জঙ্গিবাদ সংকটে সম্মিলিত প্রতিরোধ চায় রাজনৈতিকদলগুলো
- ‘হামলাকারী সাত-আট জন, তখন কাস্টমার ছিল প্রায় ২০ জন’
- কমান্ডো অভিযানে মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যে গুলশানে জিম্মি সংকটের অবসান: প্রধানমন্ত্রী
/এআরআর/এমও/