গোপন তথ্য সংগ্রহে পুলিশের বিশেষ মোবাইল অ্যাপ

সানি সানোয়ারের স্ট্যাটাসজনসাধারণের কাছ থেকে অপরাধবিষয়ক গোপন তথ্য সংগ্রহ করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশের ‎কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এ বিষয়ে ঈদুল ফিতরের পরেই একটি বিশেষ অ্যাপ চালু করা হবে। ফলে এখন থেকে দেশের যেকোনও প্রান্ত থেকে ইচ্ছা করলে যে কেউ এ অ্যাপ ব্যবহার করে অপরাধবিষয়ক তথ্য পুলিশকে জানাতে পারবে। বুধবার পুলিশের এডিসি সানী সানোয়ার তার ফেসবুকে সাধারণ মানুষকে তথ্য সহায়তা দেওয়ার আহবান জানিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টটি বাংলা ট্রিবিউনের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো। 

ফেইসবুক গোয়েন্দা Vs পেশাদার গোয়েন্দা 

অ্যামেচার গোয়েন্দাদের ভীড়ে পেশাদার গোয়েন্দাগিরি প্রায় যায় যায় অবস্থা! বুঝতেছি না চাকরিটা এবার টিকবে কিনা! ... পাবলিকের তদন্তে অডিও-ভিজুয়াল উপস্থাপনার বাহারি রকম দেখে টাসকি খাওয়ার মতো অবস্থা। বিভ্রান্তি, অবিশ্বাস আর দ্রুত বৈপরীত্যের আবির্ভাবে ছেয়ে গেছে ফেইসবুকের লম্বা পেইজ। কাউকে দেখা যাচ্ছে সত্য আবিষ্কারের পাহাড়সম অহঙ্কার নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন এই বলে যে, ‎গোয়েন্দারা কি ঘাস কাটে?
আবার কেউ কেউ এই ফেইসবুক গোয়েন্দাদের কীর্তি-কারখানা দেখে কটাক্ষ করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন, ‎এফবিআই এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে কিছু মেধাবী গোয়েন্দা নিয়োগ দেওয়া হবে! ‪‎অ্যাপ্লাই করুন...!
আবার অনেকেই ত্যক্তবিরক্ত হয়ে ইনবক্স করেছেন, ‘ফেবুর মানুষ জন গুলশান হামলার সব কিছুর জানিয়ে লিখতেছে, দেখে মনে হয় প্রশিক্ষিত বাহিনীর আর দরকার নাই, তারাই সব কিছু জেনে বসে আছে, সাধারণ মানুষ আমারা মানসিকভাবে সিক হয়ে যাচ্ছি। কিছু একটা করেন ভাই। কাজের মাঝে বিরক্ত করলাম, ক্ষমা করবেন।’

আবার অনেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ইনবক্স করেছেন, ‘কোনও জঙ্গির ব্যাপারে জানাতে হলে কিভাবে জানাব ভাই?’

যেহেতু গোয়েন্দাগিরি আমাদের পেশা, তাই উল্লিখিত বিষয়গুলো আমরা পেশাদার চোখেই দেখছি, যদিও প্রথম প্যারায় বিষয়টি নিয়ে একটু ফান (মজা) করেছি। (এর জন্য দুঃখিত)।

সাধারণ মানুষের অনুসন্ধিৎসু মনের এই বাঁধভাঙা আবেগ আর বিশ্লেষণ সত্যিকারের গোয়েন্দা হিসেবে আমাদের অপরিসীম শক্তি জোগায়। ‎ওপেন সোর্স ইনফরমেশনের উৎস হিসেবে পত্রিকা, ফেইসবুক, ফোনকল, সাক্ষাৎ, সাক্ষ্য প্রভৃতি আমাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ১০০টা তথ্যের মধ্যে ৯৯টা ভুল তথ্য আসার অজুহাতে তথ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করা আমাদের অভিধানে নেই। তাই, যত পারেন লিখুন, বিশ্লেষণ করুন, অহঙ্কার নিয়ে পোস্ট করুন, আমাদের হেয় করুন, যা খুশি বলুন...। তবু তথ্য দেওয়া বন্ধ করবেন না, প্লিজ।

আপনাদের এই তথ্যগুলো পাওয়ার জন্যই আমরা দীর্ঘদিন যাবত অনেকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। চেষ্টা করেছি আপনাদের খুব কাছাকাছি যাওয়ার। আস্থা অর্জন করে কাধেকাধ মিলিয়ে অপরাধ নিধনে কাজ করার। ফেইসবুক সে আশা অনেকটা পূরণ করেছে।

তবে ফেইসবুকের মতো গণমাধ্যমে এভাবে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপ্রমাণিত তথ্য প্রচার করা অনুচিত, আইনত গ্রাহ্যও নয়। এমনকী ১০০ ভাগ সত্য হলেও পাবলিকলি ফেইসবুকে অপরাধতথ্য প্রচারণা চালালে তা প্রকারান্তরে তদন্তের ধারাবাহিকতা এবং গোপনীয়তা বিনষ্ট হতে পারে, যা বিচারকার্যে বাধা হিসেবে পরিগণিত হয়। এই ধরনের তথ্য অনেক সময় সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে এবং পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ ছড়িয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধিয়ে দিতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা, সামাজিক মর্যাদা, সুনাম, সমৃদ্ধি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ আইনের আশ্রয়ও নিতে পারে।

তাই, আপনার কাছে থাকা যেকোনও প্রকার মূল্যবান অপরাধ তথ্য, মতামত এবং আপনার সুচিন্তিত তথ্য বিশ্লেষণ গোপনে আমাদের কাছে পৌঁছে দিন। পাবলিকলি শেয়ার করা থেকে আমাদের সঙ্গে শেয়ার করাটাই অনেক বেশি কার্যকরী, যৌক্তিক এবং আইনসিদ্ধ।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি আমাদের কিভাবে এই তথ্য দেবেন? তথ্য দেওয়ার পদ্ধতি কী হতে পারে—এ বিষয় নিয়ে আমরা অনেকদিন যাবত ব্রেইনস্টর্মিং করছিলাম।

আপনার নিজের এবং সমাজের নিরাপত্তার স্বার্থে ফেইসবুকের এই তথ্যসমূহ খুব নির্বিঘ্নে আমাদের কাছে আসার একটি সহজ এবং নিরাপদ পদ্ধতি অবশেষে আমরা পেলাম। এই ঈদের পর পরই আমরা এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করতে যাচ্ছি। এটি খুব সিম্পল কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী ‎একটি মোবাইল অ্যাপ।

আপনি এর সাহায্যে ‎নিরাপদে নির্বিঘ্নে সংগোপনে পরিচয় গোপন রেখে সুশৃঙ্খলভাবে এবং অতি সহজে বিভিন্ন প্রকার অপরাধবিষক গোয়েন্দা তথ্য, মতামত ও সুচিন্তিত অপরাধবিশ্লেষণ একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ‎পুলিশের জঙ্গিবাদ নিরোধকারী সংস্থা: ‎কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)-কে দিতে পারবেন। আর এই অ্যাপটি Google Play অথবা Apple Store থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন। অ্যাপসটি তৈরির কাজ ৯৫% সমাপ্ত হয়েছে। ঈদের পরপরই এটি নেটে লঞ্চ করা হবে।

এই অ্যাপটি ‎পুলিশের আইডি কার্ড-এর মতো কাজ করবে প্রতিটি মানুষের মোবাইলে। ফলে প্রতিটি সাধারণ মানুষই হয়ে উঠবেন একেকজন পুলিশ। এভাবেই ১ লক্ষ ৭০ হাজার (প্রায়) পুলিশের এই যৎসামান্য সংখ্যার সঙ্গে পুলিশ হিসেবে যুক্ত হবে আরও প্রায় ১৭ কোটি জনতা।

আর তখনই আমরা দেখবো এদেশটা কার? গুটিকয়েক সাইকোপ্যাথিক জঙ্গির, না ১৭ কোটি জনতার?

অপরাধ নিরোধের জন্য অ্যাপটি ব্যবহার করে আপনি হয়ে উঠতে পারেন একজন ‎দায়িত্বশীল নাগরিক এবং ‎সত্যিকারের দেশপ্রেমিক।

/সিএ/এসএনএইচ/এমএনএইচ/