ব্যারিস্টার মনিরুল ইসলাম মনজু মনে করেন, তারেক রহমান তার বিরুদ্ধে দেওয়া আদেশের বিপক্ষে আপিল করতে যদি ৩০ দিনের মধ্যে সশরীরে দেশে ফিরতে পারেন সেক্ষেত্রে তাকে বাংলাদেশের আইনে তিনি আপিলের সুযোগ পাবেন অথবা তিনি যদি মনে করেন, এই মুহূর্তে তিনি দেশে গেলে ন্যায় বিচার পাবেন না, সেক্ষেত্রে তিনি দেশে ফিরে না গিয়ে যখন পরিস্থিতি অনুকূল মনে করেন তখন যেতে পারেন।
সেটি ১০ বছর পরে হলেও কোনও আইনি বাধা নেই। তবে সেক্ষেত্রে বিচারক তার ইনহেরেন্ট পাওয়ার অব অ্যাক্ট ব্যবহার করে আবেদনকারীর ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে পারেন। সুপ্রিমকোর্টের বিচারকদের সংবিধানের ১৫১ ধারায় ইনহেরেন্ট পাওয়ার দেওয়া আছে। ন্যায় বিচারের স্বার্থে বিচারক সেটি ব্যবহার করতে পারেন। আবার বিচারক সেই ইনহেরেন্ট পাওয়ার ব্যবহার না করে আপিলের সুযোগ না দিলে তারেক রহমানের আগের সাজা বহাল থাকবে।
ব্যারিস্টার মঞ্জু বলেন, যদি তারেক রহমান ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিল না করেন তাহলে তারেক রহমানকে পলাতক দেখিয়ে তাকে খুঁজে বের করতে ইন্টারপোলের সহায়তা নিতে পারে সরকার। ইন্টারপোল তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করতে পারে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক আইনজীবী বলেছেন,ইতোপূর্বে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি হিসেবে দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই রেড নোটিশ দিয়ে তারেক রহমানকে দেশে ফেরানো যায়নি। উল্টো তারেক রহমানের যুক্তরাজ্যের আইনজীবীরা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জারি করা রেড অ্যালার্ট যে রাজনৈতিক কারণে দেওয়া হয়েছে, সেটি প্রমাণ করায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশটি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।
আগামী নির্বাচনে তারেক রহমান নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মঞ্জু বলেন, তারেক রহমান নির্বাচনের অযোগ্য হবেন কিনা সেটি নির্ভর করে আদালতের রায়ের সিদ্ধান্তের ওপর। অ্যাপিলেট ডিভিশনের রায়ে যদি বলা হয়, তারেক রহমানের মামলার রায়ের ডিসিশন আপহেল্ড, তাহলে তিনি নির্বাচনের অযোগ্য হবেন। ডিসিশন পেন্ডিং হলে তারেক রহমান নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
ব্যারিস্টার আনিস রহমান ওবিই মনে করেন, তারেক রহমানকে দেশে ফেরাতে বন্দি প্রত্যাপর্ণ আইন-২০১০-এর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারকে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তারেক রহমানের অপরাধের বিষয়গুলো তুলে ধরে তারেক রহমানকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আবেদন করতে হবে।
ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের আবেদন পর্যবেক্ষণ করে তারেক রহমানকে নোটিশ পাঠিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেবে। আদালতে তারেক রহমান হেরে গেলে ব্রিটেন তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানেরা উদ্যোগ নেবে। তবে তার আগে বাংলাদেশকে এই মর্মে নিশ্চয়তা দিতে হবে, তারেক রহমানকে কোনও মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না। কারণ, ব্রিটেন মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করে না।
তবে ২০১০ সালের বন্দি প্রত্যার্পণ আইন মেনে যে কোনও অপরাধীকে ব্রিটেন থেকে ফেরাতে দীর্ঘ জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং যা খুবই ব্যয়বহুল। জর্ডানের নাগরিক আবু কাতাদার ক্ষেত্রে এ ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করে তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। ২০০২ সাল থেকে আবু কাতাদা ব্রিটেনের কারাগারে বন্দি ছিলেন। ২০০৫ সালে আবু কাতাদার পত্যার্পণের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে শেষ হয় ২০১৩ সালে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে ব্রিটিশ সরকারের খরচ হয়েছিল ১.৭ মিলিয়ন পাউন্ড।
এবি