পাঠকের জন্য তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
‘কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানকালে সন্ত্রাসীদের গ্রেনেড নিক্ষেপে পুলিশের ৪ কর্মকর্তার মৃত্যু, আহত ৪২ কর্মকর্তা, তিন জঙ্গি গ্রেফতার হলেও বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে!’
দুঃখিত, বন্ধু, এ রকম একটা খবর যদি আপনি আশা করে থাকেন, তাহলে আমরা আপনার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি! প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় আপনি যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমরা সত্যিই দুঃখিত!
‘নাম-ঠিকানা না জেনে জঙ্গি বলছেন কিভাবে?’ ‘জঙ্গিরা এ রকম পাঞ্জাবি, কেডস পরে ঘুমাতে গিয়েছিল কেন?’ ‘৪টি পিস্তল দিয়ে কিভাবে সারারাত মুহুর্মুহু গুলি চালানো সম্ভব ‘ ‘কেন তাদের জীবিত ধরা গেল না?’ এ রকম অনেক যৌক্তিক প্রশ্ন কারও মনে আসতেই পারে।
আমি যদি বলি আপনি বুঝেও না বোঝার ভান করছেন, আপনি খণ্ডাবেন কী করে? গোটা সোস্যাল মিডিয়াজুড়ে আলোচনা হচ্ছে যে প্রতিবশীরা বলছে, ওই বাসার লোকেরা সারারাতই কথিত জিহাদের পক্ষে স্লোগান দিয়েছে, তাদের রুমে কথিত আইএসের পতাকা পাওয়া গিয়েছে, প্রচুর সংখ্যক উগ্রবাদী বইপুস্তক পাওয়া গেছে। তারপরও তারা জঙ্গি কিনা, তা বোঝার জন্য কি রিসার্চের প্রয়োজন আছে?
আনুমানিক রাত একটার কাছাকাছি পুলিশের প্রথম দলটি বাসাটিতে নক করে এবং প্রথম দফা সংঘর্ষের পরে প্রায় সারারাত বিল্ডিংটা কর্ডন করে রাখা হয়। চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয় ভোর ৫ টা ৫০মিনেটের দিকে। দীর্ঘসময় তারা ঘুমিয়ে ছিল কিনা, এই পোশাক পরার সময় পেয়েছিল কিনা, তা বোঝার জন্য বুদ্ধিজীবী হওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা, দয়া করে ভেবে দেখবেন কি?
সারারাত মুহুর্মুহু গোলাগুলি হয়েছে এ রকম কোনও তথ্য আমার জানা নেই। আমি যতটুকু জানি, যখনই পুলিশ বাসাটিতে ঢুকতে চেষ্টা করেছে, ততবারই গুলি চালানো হয়েছে। চূড়ান্ত অভিযান হয়েছে একঘণ্টার কাছাকাছি। ওই সময়েই মূলত চূড়ান্ত গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আপনার বিশ্বাস এ তথ্য আপনার অজানা নয়। তাহলে কেন এ রকম প্রশ্ন তুলছেন? পুলিশের সাফল্য মানতে পারছেন না তাইতো!
আপনি তো সবজান্তা অথচ আপনি এই ধরনের অপারেশনগুলোর ইতিহাস জানেন না। দেশে এবং দেশের বাইরে কোথায় এই ধরনের অপারেশনে কতজন জীবিত গ্রেফতার হয়েছে জানালে বাধিত হব।
আসলে, পুলিশের কেউ মারা যায়নি কিংবা কেউ গুরুতর আহত হয়নি এতেই তো আপনার যত আপত্তি তাই না, বন্ধু!’
প্রসঙ্গত, ২৬ জুলাই পুলিশের অভিযানে কল্যাণপুরে ৯ জঙ্গি নিহত হয়। এ সময় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। ওই জঙ্গি আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়তে পারেন
নির্ঘুম রাত কাটালেন কল্যাণপুর ৫ নম্বর রোডের বাসিন্দারা
/এআরআর/এমএনএইচ/