ফায়ার সার্ভিসের ডিজি বলেন, ‘বসুন্ধরায় অতীতের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলোতে তদন্ত করে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয় আমরা জমা দিয়েছিলাম। তখন বেশ কিছু ত্রুটি পেয়েছিলাম। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, অগ্নিনির্বাপনের জন্য মলের ভেতরের পানির লাইন ঠিক ছিল না, অন্য পদ্ধতিগুলোও কাজ করছিল না। মলের ভেন্টিলেটর ছিল না। আমরা তা ঠিক করার জন্য বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষকে বলেছিলাম।’
ফায়ার সার্ভিসের সুপারিশগুলো বসুন্ধরা বাস্তবায়ন করেছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খান বলেন, ‘আগের ত্রুটিগুলো এবার তেমন ছিল না। সেগুলো তারা কিছুটা ঠিক করেছে। মলের ওপরের দিকে কিছু ভেন্টিলেটরও করেছে। তবে তাদের কর্মীরা প্রশিক্ষিত নন। এ কারণে তাদের কাজ করতে সমস্যা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আর কোনও ত্রুটি এবার ছিল কিনা? তা আমরা তদন্তের পর বলতে পারব। তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। দেখা যাক কি হয়।’
এদিকে, সোমবার বসুন্ধরা সিটির হেড অব মার্কেটিং জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ‘বসুন্ধরা সিটিতে আগুন লাগার ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের গঠিত তদন্ত কমিটির পাশাপাশি নিজেরাও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি করবে বলে জানিয়েছে বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘মার্কেটটি বুধবার নাকি বৃহস্পতিবার খুলে দেওয়া হবে সে সিদ্ধান্ত নেবে তাদের নিজস্ব তদন্ত কমিটি।’
জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ‘এখন ফায়ার সার্ভিস ডাম্পিংয়ের কাজ করছে। ড্যাম্পিংয়ের পর ফায়ার সার্ভিস আমাদের কাছে মার্কেট হস্তান্তর করবে। এরপর আমরা মার্কেটের সবদিক পর্যবেক্ষণ করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আমরাও ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করব। কমিটি তদন্ত করে দেখবে কারও গাফিলতি ছিল কিনা, জনবল কম ছিল কিনা। ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, পুরোপুরি ১১টি এবং আংশিক ২০/২২ টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
মার্কেট খোলার বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের তদন্ত কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে মার্কেট বুধবার না বৃহস্পতিবার খুলবে।’
উল্লেখ্য, রবিবার সকাল ১১টা ২৩ মিনিটে বসুন্ধরার লেবেল ৬-এর সি ব্লকের একটি জুতার দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও বসুন্ধরার নিজস্ব ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ১০ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে মলটির ৬ তলার সি ব্লকের শতাধিক দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, তাদের প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বাটা শো-রুমের কর্মচারী রাসেল জানান, ‘অগ্নিকাণ্ডের সময় কোনও সিগন্যাল দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তকর্মীরা নিজেরা গিয়ে গেয়ে কেবল শুধু বলছে আগুনের কথা। আমাদের বের হয়ে আসলে বলল। এরপর আমরা বের হয়ে আসি।’
অন্যদিকে গত দুই দিনে ব্যবসায়ীদের শপিং মলে প্রবেশ করতে দেয়নি কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভও রয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ দোকানের অবস্থা তাদের জানা দরকার। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কিছুই বলছে না।
লেবেল ৫ এর ৩৪ নম্বর রাতুল টেলিকমের মালিক শাকিল মাহমুদ বলেন, ‘শুক্র ও শনিবারের বিক্রির নগদ আট থেকে নয় লাখ টাকা। ২৮ থেকে ৩০ লাখ টাকার মোবাইল ফোন সব দোকানে। ভেতরে কি হচ্ছে কিছুই জানতে পারছি না।’
তবে বসুন্ধরা শপিং মলের ইনচার্জ জসীম উদ্দিন বলেছেন, ‘এখনও মার্কেট ফায়ার সার্ভিসের হাতে। তারা ডাম্পিং শেষে আমাদের বুঝিয়ে দিলে তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারব কি করা হবে। এখনও তারা বুঝিয়ে দেয়নি ‘
আরও পড়ুন: বসুন্ধরা সিটিতে এখনও ধোঁয়া, পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি
/এমএনএইচ/