জাতীয় জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাকক্ষে এ মোড়ক উন্মোচন অনু্ষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক আমাদের অর্থনীতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নাসিমা খান মন্টি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, শচীন দেববর্মণ সংগীত জগতের বিরল প্রতিভা। যিনি জীবনে বেশির ভাগ সময় দেশের বাইরে এমনি বাংলা ভাষাভাষীদের থেকে দূরে কাটিয়েছে। ভিন্ন ভাষায় তিনি সংগীত রচনা করেছেন। কিন্তু তার এই সবকিছুর মূলে ছিল বাঙালি, বিশেষ করে এ অঞ্চলের সংস্কৃতির এক ছাপ। মাটি থেকে উঠে আসা সুর ধারণ করে নিজেকে এই অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
এসময় তিনি কুমিল্লায় শচীন দেববর্মণের বাড়িকে ‘মিউজিক মিউজিয়াম’ করার পরিকল্পনার কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, তার বাড়িতে বাংলা গানের আর্কাইভ করা হবে। শুধু বাংলা নয়, সঙ্গীতের কোনও দেশ নেই, জাতি নেই। এই আর্কাইভে বিশ্ব সঙ্গীতকেও সংরক্ষণ করা হবে। তার বাড়িটি ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গীত চর্চার কেন্দ্র গড়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বইটি সম্পর্কে বলেন, আমি পুরো বইটি পড়ার সুযোগ পাইনি। তবে যতটুকু দেখেছি তাতে মনে হয়েছে, অনেক তথ্য সমৃদ্ধ রচনা এটি। বইটিতে শচীন দেববর্মনের জীবনীর সঙ্গে আরও বিভিন্ন সূত্র থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এতে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে বইটি পড়ে নতুন প্রজন্ম শচীন দেববর্মণ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে পারবে।
গোলাম ফারুক রচিত বইটি নিয়ে সামান্য সমালোচনার পাশাপাশি ভূয়সী প্রশংসা করেন কবি আসাদ চৌধুরী। তিনি বলেন, কুমিল্লার বিভিন্ন সংস্কৃতির কথা তুলে ধরা হয়েছে এই বইয়ে। উপমহাদেশের এই গুণী শিল্পীর জীবনের বিভিন্ন দিক চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে এতে। সুর সম্রাট শচীন দেববর্মণ ফোক গানের সঙ্গে ক্লাসিকের মিলন গঠিয়েছেন।
বইটির সমালোচনা করে আসাদ চৌধুরী বলেন, মর্তের রাজ্য ছেড়ে সুরের সম্রাজ্যে-বইটিতে সবই ঠিক আছে। শুধু অ্যাকাডেমিক লোকজনের পরামর্শ নিয়ে করলে আরও ভাল হতো। এটার অভাবে আগে পিছে কিছুটা এলোমেলো হয়েছে।
শচীন দেববর্মনের জীবনের ওপর রচিত ৫৪৪ পৃষ্ঠার বইটি বাজার মূল্য ধরা হয়েছে একহাজার টাকা।
/আরজে/এইচকে/