৮ দিনেও জ্ঞান ফেরেনি জয়পুরহাটের সেই মেয়েটির

ধর্ষণ‘গত ২৮ তারিখ সকাল থেকে আইসিইউর সামনে মাদুর পেতে বসে আছি, খোদার দরবারে হাত তুলেছি, মেয়েটাকে ফিরে পাবার জন্য। কিন্তু এখনও মেয়েটার জ্ঞান ফিরলো না। ডাক্তাররা বলছেন সে ভালো আছে কিন্তু মন মানে না।’ শুক্রবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে জয়পুরহাটে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির ফুপা জাকারিয়া আল মামুন দুলাল এসব কথা বলেন।
আর মেয়েটির চিকিৎসকরা বলছেন, ‘স্ট্যাবল থাকলেও আইসিইউ থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত তাকে শঙ্কামুক্ত বলা যাবে না।’
এই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ইতোমধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর)  তাদের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল বাহার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে জয়পুরহাটের কালাই থানার বানদিঘী গ্রামের দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ঘরে ঢুকে ধর্ষণের পর কুপিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে শনিবার ভোরে বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গত ২৪ ডিসেম্বর রাত দেড়টার দিকে ঢাকার আগারগাঁও নিউরো সায়েন্স  ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে তাকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ডিসেম্বর দুপুরে মেয়েটির অপারেশন হয়। তার চিকিৎসায় গত ২৮ ডিসেম্বর ঢামেকের নিউরো সার্জারি, গাইনোকোলজি, জেনারেল সার্জারি এবং ওসিসির (ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার) কনসালটেন্টদের নিয়ে ৫ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তার চিকিৎসায় গঠিত বোর্ড যেভাবে নির্দেশনা দেবে সেভাবেই চিকিৎসা চলবে।

নির্যাতিত মেয়েটির ফুপা জাকারিয়া আল মামুন দুলাল শুরু থেকেই রয়েছেন এই পরিবারটির সঙ্গে। তিনি জানান, ‘ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসার পর গত ২৬ ডিসেম্বর মেয়েটির অপারেশন হলেও এখনও সে অচেতন। আর আমরা আশায় বুক বেঁধে আছি, কখন সে চোখ মেলে তাকাবে।’

নির্যাতিত মেয়েটিকে গত ২৮ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পোস্ট অপারেটিভ থেকে আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) স্থানান্তর করা হয়েছে। সেদিন হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. অসিত চন্দ্র সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, ‘মেয়েটির শারীরিক অবস্থা আগের মতো স্থিতিশীল আছে, তবে এখনও আশঙ্কামুক্ত নয়।’ শুক্রবারও ডা. অসিত চন্দ্র সরকার একই কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আইসিইউ থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত তাকে আশঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না।’

/এমও/ এপিএইচ/
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহ যে কী ঘুম দিছে সেই রাতে!’