সংগঠনের নেতাকর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত ইডেনের ছাত্রলীগ কর্মী

ইডেন কলেজের ছাত্রলীগ কর্মীর ফেসবুক স্ট্যাটাসসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে নিজ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হাতেই লাঞ্চিত হয়েছেন ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কর্মী রোচিরা রাকা। গায়ে হাত দেওয়া, ওড়না ধরে টানাটানিসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউন প্রতিবেদকে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রাকা জানান, তিনি থাকেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ১০১৩ নম্বর কক্ষে। কিন্তু কয়েকদিন ধরেই এই রুমে আরও এক ছাত্রীকে ওঠানোর জন্য চেষ্টা করছিলেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ইসরাত জাহান ইতি, বিথী আক্তার, নাসিমাসহ বেশ কয়েকজন। কিন্তু অন্য কারও সঙ্গে সিট শেয়ার করতে অস্বীকৃতি জানান রাকা। এতে ক্ষিপ্ত হন ইতিসহ অন্যান্যরা।
এর মধ্যে বুধবার সকালে কোনও কারণ ছাড়াই গালিগালাজ শুরু করেন ইতি। রাকা বলেন, ‘সকালে আমি নাস্তা করতে যাচ্ছিলাম। পথে তাদের সঙ্গে দেখা হয়। দেখা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা অসভ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং আমাকে হল ছেড়ে বাইরে বাসা নিয়ে থাকার কথা বলে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) আমার পরীক্ষা থাকায় আমি তাদের এড়িয়ে চলে যাই। কিন্তু তাদের কথা শুনে খুব মন খারাপ হয়। আমি হলে ফিরে আমার আইডি থেকে দুপুরে একটা স্ট্যাটাস দেই।’
নিজ আইডি থেকে দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসে রাকা লিখেন, ‘‘ইডেন কলেজকে বাবার সম্পত্তি বলে দাবি করা কোনও ছাত্রলীগ নেত্রীর বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। বিনয়ী ও আত্মত্যাগী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিকে নেত্রী হিসেবে আশা করে সাধারণ ছাত্রীরা। কিন্তু কিছু নেত্রীর লোভ, হিংসাত্মক আর অশোভনীয় আচরণের জন্য ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের মতো একটি পবিত্র সংগঠনকে এরা সমালোচনার বিষয়ে পরিণত করে, যা আমাদের মতো সাধারণ ছাত্রলীগ কর্মীদের জন্যও লজ্জাজনক।’
এই স্ট্যাটাস দেওয়ার পর ইতিসহ অন্যরা আরও বেশি ক্ষেপে ওঠে। বিকাল ৪টার দিকে তাকে ডেকে পাঠানো হয়। এসময় কলেজের আহ্বায়কের সামনেই তার গায়ে হাত দেওয়া হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলে জানান রাকা। তিনি বলেন, ‘আহ্বায়কের সামনে ওরা আমার বিশ্রী ভাষায় গালি দিতে শুরু করে। আমাকে মারধর করে। ওড়না ধরে টানাটানি করে। আমাকে বের হয়ে যেতে বলে। কালকে পরীক্ষা, জানি না কী করব?’
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মারধরের ঘটনা অস্বীকার করেন ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক ইসরাত জাহান ইতি। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকালে আমার সঙ্গে ওর দেখা হয়েছিল। কিন্তু মারধর বা হাতাহাতির কোনও ঘটনা ঘটেনি। ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় তাকে ডেকে এনে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। তারপর সে স্ট্যাটাসটি ডিলিট করে দেয়। এর বেশি কিছু হয়নি।’
ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তাসলিমা আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি কয়েকদিন অসুস্থ ছিলাম। আজকে আসার পর সবাই জানালো, রাকা নামের একজন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে। বিষয়টি জানার পর তাকে ডেকে আনা হয়েছিল। আমার সামনেই কথা বলে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মারধরের কোনও ঘটনা ঘটেনি।’ তাসলিমা আরও বলেন, ‘আমি ওদের সবার অভিবাবক। আমার সামনে একজনের প্রতি অন্যায় হবে, সেটা আমি কখনও হতে দেব না।’

আরও পড়ুন-

সাংবাদিক শিমুল হত্যাকাণ্ড: মেয়র মীরুর শটগান সিআইডিতে জমা

শিশু জিহাদ হত্যা মামলার রায় ২৬ ফেব্রুয়ারি

/আরজে/টিআর/