বিশেষ বাহিনীর আরও দুই কর্মকর্তা আসতেন লাইফ স্কুলে!

লাইফ স্কুল, ছবি- সংগৃহীতজঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতায় অভিযুক্ত উত্তরা লাইফ স্কুলটিতে দেশের একটি বিশেষ বাহিনীর আরও দুই কর্মকর্তা আসা যাওয়া করতেন বলে জানতে পেরেছে র‌্যাব। তাদের দুজনের ছদ্মনাম পেলেও এখনও বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। র‌্যাব ছাড়াও কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

র‌্যাবের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘লাইফ স্কুল থেকে গ্রেফতার এক নারী দুই ব্যক্তির নাম বলেছেন। তারা বর্তমানে একটি বাহিনীতে কর্মরত। তাদের ডাক নাম আমরা পেয়েছি। তবে সেই নামে ওই বাহিনীতে কোনও ব্যক্তিকে এখনও পর্যন্ত চিহ্নিত করা যায়নি। তারা ছদ্মনাম ব্যবহার করে ওই স্কুলে আসা যাওয়া করতেন।’

র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘র‌্যাব ছাড়াও অন্যান্য বাহিনীর গোয়েন্দারা দুজনের নাম নিয়ে কাজ করছে। তবে তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এর আগে এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত এক নারী যে নাম দুটি বলেছে তার সত্যতা আসলে আমরা পাইনি।’

গত ৮ জানুয়ারি র‌্যাব-৪-এর একটি দল রাজধানীর উত্তরা ও কলাবাগান এলাকা থেকে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সন্দেহভাজন ১০ জনকে গ্রেফতার করে। তারা হলো, আবু সাদাত মো. সুলতান আল রাজী ওরফে লিটন (৪১), আল মিজানুর রশিদ (৪১), জান্নাতুল মহল ওরফে জিন্নাহ (৬০), মো. জিয়াউর রহমান (৩১), মো. কৌশিক আদনান সোবহান (৩৭), মো. মিজানুর রহমান (৪৩), মেরাজ আলী (৩০), মুফতি আব্দুর রহমান বিন আতাউল্লাহ (৩৭), মো. শাহরিয়ার ওয়াজেদ খান (৩৬) ও শরিফুল ইসলাম (৪৬)।

গত বছরের ৮ অক্টোবর ঢাকার আশুলিয়ার একটি বাড়িতে র‌্যাবের অভিযানকালে পাঁচতলা থেকে পড়ে নব্য জেএমবির অর্থদাতা সারোয়ার জাহান নিহত হয়। ওই সময় আশুলিয়া থানায় র‌্যাবের দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে দুই দফায় রিমাণ্ডে নেওয়া হয়। এর মধ্যে আল রাজী ওরফে লিটন ও মেরাজ আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আশুলিয়ার ওই মামলাটিতেই গ্রেফতার দেখানো হয় ওই দশজনকে।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব ৪ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার উনু মং। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের তদন্ত কাজ প্রায় শেষ। এই মামলায় ইতোমধ্যে মোট ১৪ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এদের মধ্যে লাইফ স্কুল থেকে গ্রেফতার চারজনও রয়েছে। তারা তাদের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।’

উনু মং আরও বলেন, ‘আমরা শিগগিরই এই মামলা অভিযোগ পত্র দাখিল করবো। এখন শেষ সময়ের কাগজপত্র গোছানো হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, বর্তমানে লাইফ স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

/এআরআর /টিএন/

আরও পড়ুন: 

শেখ হাসিনার সরকারই অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবে: তোফায়েল