বুধবার রাতে এ তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। তিনটি মামলার মধ্যে একটি মামলার বাদী মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ফেরদৌসি। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি তার ছেলে সুজন কাজের জন্য গাবতলী যায়। কিন্তু রাতে বাসায় না ফেরায় তিনি গাবতলী গিয়ে জানত পারেন, রাত দেড়টার দিকে এক হাজার শ্রমিক বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে লোহার রড, ইট, লাঠি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে। এতে সুজনের মাথা ও ডান হাতে মারাত্বকভাবে জখম হয়।
এছাড়া শ্রমিকরা সুজনের শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করে আহত করেছেন। আহত ছেলেকে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করান বলে এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী ফেরদৌসি।
দারুসসালাম থানা সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ বাদী হয়ে করা দুটি মামলার মধ্যে একটি পেনাল কোডে ও অপরটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা হয়েছে। মোট তিনটি মামলায় তাজুল ইসলাম, আবুল হাসেম, সামছুল আলম, আহম্মেদ আলী, আব্দুল সাত্তার, নসু, আবুল বাশার, কালাম মুন্সি, জুল জালাল, হাজী সুলতান, নাসির উদ্দিন, লোকমান ফরাজী, কামাল, জামাল, শাহ আলমসহ ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিমুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গাবতলীতে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। দুই মামলায় পুলিশ বাদী ও অপর মামলাটি একজন ভুক্তভোগীর মা দায়ের করেছেন।
উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহতের ঘটনায় এক বাস চালকের যাবজ্জীবন সাজা হওয়ায় ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে খুলনা বিভাগের দশ জেলায় পরিবহন ধর্মঘট চলছিল। অন্যদিকে সাভারে ট্রাকচাপা দিয়ে এক নারীকে হত্যার দায়ে আদালত ২৭ ফেব্রুয়ারি চালকের ফাঁসির দণ্ড দিলে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেন পরিবহন শ্রমিকরা।
ধর্মঘটের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর গাবতলীতে। অশান্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শুরু হয় ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় পুলিশ বক্স ও একটি রেকার। শেষ রাতে কিছুটা শান্ত থাকলেও বুধবার সকাল থেকে আবারও তাণ্ডব চালায় পরিবহন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও বুলেট ছুড়ে। এসময় শাহীনুর নামের এক শ্রমিক নিহত হন । পরবর্তীতে বুধবার দুপুরে শ্রমিক নেতা ও নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের আহ্বানে ধর্মঘট ছেড়ে কাজে ফিরে যান পরিবহন শ্রমিকরা।
আরজে/এনএল/এপিএইচ/