মালিন্দো এয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন যাত্রী সালমান চৌধুরী। আইন অনুযারী, জরিমানার অঙ্কের ২৫ শতাংশ, ৬২ হাজার ৫শ টাকা পেয়েছেন অভিযোগকারী যাত্রী।
জানা গেছে, ওয়ারস কনভেনশন অনুযায়ী কোনও যাত্রীর ব্যাগ হারানো গেলে তাকে কেজি প্রতি ২০ মার্কিন ডলার হারে ক্ষতিপূরণ দিতে হয় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সকে। কিন্তু মালিন্দ এয়ার দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ম না মেনে যাত্রীদের ব্যাগ হারানোর ক্ষেত্রে কেজি প্রতি ১০ ডলার হারে ক্ষতিপূরণ নিতে বাধ্য করছিল।
অভিযোগকারী যাত্রী সালমান চৌধুরী বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া থেকে মালিন্দো এয়ারে চড়ে ২০১৬ সালে ৪ নভেম্বর ঢাকায় আসি। ওইদিন আমার ব্যাগটি না পাওয়া গেলে আমি তাদের কাছে অভিযোগ করি। তারা ডিসম্বর মাসে জানায়, ব্যাগ না পাওয়া গেলে কেজি প্রতি ১০ ডলার হারে ক্ষতিপূরণ দেবে। কিন্তু এয়ারপোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের অফিসিয়াল ফেসবুকে পেজের মাধ্যমে আমি জানতে পারি, নিয়ম অনুযায়ী কেজি প্রতি ২০ ডলার হারে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা আমার।’
সালমান চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি আমি মালিন্দো এয়ারকে জানালেও তারা তাদের নিয়ম অনুসারে ১০ ডলার হারেই ক্ষতিপূরণ দেবে বলে জানায়। গত রবিবার (৫ মার্চ) আমার হারানো ব্যাগের জন্য ক্ষতিপূরণের চেক দেয় এবং সেটা ছিল প্রতি কেজি ১০ ডলারের হিসাবে। পরে আমি আজ (রবিবার, ১২ মার্চ) বিমানবন্দরের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে লিখিত অভিযোগ জানাই।’
বিমানবন্দরের ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, যাত্রী সালমান চৌধুরীর অভিযোগের ভিত্তিতে মালিন্দো এয়ারকে তলব করা হলে এয়ারলাইন্সটির স্টেশন ম্যানেজার প্রদীপ কুমার আদালতে নিজেদের ম্যানুয়াল উপস্থাপন করেন। এতে ব্যাগ হারানোর ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ১০ ডলার হারে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা ছিল। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত অনুসন্ধান করে দেখেন, এয়ারলাইন্সটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ওয়ারস কনভেনশন মেনে প্রতি কেজি ২০ ডলার হিসাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাই উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়ে কোনও ধরনের আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারেননি মালিন্দো এয়ারের স্টেশন ম্যানেজার।
বিমানবন্দরের ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যাত্রীর অভিযোগ আমলে নিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৫ ও ৫৩ ধারা অনুযায়ী মালিন্দো এয়ারকে মোট আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে এখন থেকে যাত্রীদের বিদ্যমান আইন ও প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যথাযথ সেবা ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী অভিযোগকারী ক্ষতিপূরণের প্রাপ্ত অর্থের ২৫ শতাংশ অর্থ পাবেন।’
উল্লেখ্য, মালিন্দো এয়ারের মালিকানা যৌথভাবে মালয়শিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ারের।
আরও পড়ুন-