বৈঠক সূত্র জানায়, হেফাজতে ইসলামের আমির ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফী দাওয়ায় হাদিসের মান সরকারের কাছ থেকে এমএ (আরবি/ ইসলামের ইতিহাস) সমমান দেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেন। সেই দাবির বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করে পাঁচ সদস্যের লিয়াজোঁ কমিটি। এছাড়া, তারা কওমি মাদ্রাসারা দাওয়ায় হাদিসের মান সব ধরনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখার বিষয়টিও মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। এমনকি মন্ত্রনালয়র পূর্ব প্রস্তাবিত কওমি মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ ও কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া বাতিলের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়। সরকার স্বীকৃতি দিলেও কওমি শিক্ষা পদ্ধতি, সিলেবাস ও মাদ্রাসা পরিচালনায় কোনও ধরনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপ না করার বিষয়টিও উপস্থাপন করে লিয়াজোঁ কমিটি।
মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠক শুরু হয় মঙ্গলবার বিকাল ৩টায়। বৈঠকে পাঁচ সদস্যের লিয়াজোঁ কমিটির মধ্যে ছিলেন মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা মুফতি রূহুল আমীন, মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ, মাওলানা মাহফুজুল হক ও মুফতি নূরুল আমীন। এছাড়া, কমিটির বাইরে আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল জয়নুল আবেদিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেন এবং আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আব্দুল্লাহ।
জানা গেছে, গত ২১ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব আব্দুল খালেক দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের নিয়ে বৈঠক আহ্বান করেছিলেন। বৈঠকটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের (প্রশাসন ও উন্নয়ন) সভাপতিত্বে ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়া কথা ছিল। বৈঠকে আল্লামা শাহ আহমদ শফী ছাড়াও দেশের ছয়টি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের সভাপতি ও মহাসচিব, কওমি মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এই বৈঠক আহবান করায় ক্ষুদ্ধ হয় বেফাকের শীর্ষ নেতারা। বেফাকের অনুরোধে সেই বৈঠক বাতিল করা হয়। সেই বৈঠকের পরিবর্তে আহমদ শফীর পাঁচ সদস্যের লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী।
জানা গেছে, শাহ আহমদ শফী গত ১০ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসায় দেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ও কওমি অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা আহ্বান করেছিলেন। ওই সভাতেই সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্যে এই লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করেন আহমদ শফী।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা লিয়াজোঁ কমিটির একজন সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সভায় আহমদ শফীর প্রস্তাবিত বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি নিজেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বীকৃতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন।’
এ প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনকে ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর কাছে সনদের স্বীকৃতির বিষয়ে আমরা আমাদের প্রস্তবনা আগেও উপস্থাপন করেছি। আজকের সেগুলো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। স্বীকৃতির ঘোষণার বিষয়ে আমরা আশাবাদী।’
লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলাপ-আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। স্বীকৃতির পরিণতির দিকে আগানোর একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে এটি প্রথম বৈঠক, আর কিছু কাজ তো বাকি আছে।’
আরও পড়ুন-
প্রশ্নপত্র ফাঁসে ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক মিলে একাকার
ঢাবি কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠালেন ড. রিয়াজুল
শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনা: বিচারের মুখোমুখি সেলিম ওসমান
/টিআর/