শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, 'দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে কর্তৃপক্ষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবু কেউ নির্বাচন দেওয়ার সাহস করছে না।'
বুধবার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসায় স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন-২০১৭ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী একথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন,‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করার ব্যাপারে আমরা শিক্ষকদের (কর্তৃপক্ষ) কাছে আবেদন করেছি। তবু কেউ সাহস করে নির্বাচন দেয় না। তারা তাদের আইন (বিশ্ববিদ্যালয় আইন) অনুযায়ী চলে।’
রাষ্ট্রপতি এর আগে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ওই আহ্বান নিয়ে কথা হচ্ছে। এভাবে আমরা তাদের (বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ) উৎসাহিত করছি। কিন্তু আমরা তো আর সিদ্ধান্ত দিতে পারি না।’
ছাত্র সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পারস্পারিক সহযোগিতা নিতে বলেছি। তারা পরিস্থিতি বুঝে নির্বাচন করতে পারে।’
স্টুডেন্ট কেবিনেট গঠনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিশুকাল থেকে গণতন্ত্র চর্চা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, অন্যের মতামতের প্রতি সহিঞ্চু হওয়া, শিক্ষকদের শিখন-শিখানো কার্যক্রমে সহযোগিতা করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী ভর্তি ও ঝরে পড়া রোধ করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নত পরিবেশ সৃষ্টি এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচনের উদ্দেশ্য।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আটজন প্রতিনিধির সমন্বয়ে এক বছরের জন্য স্টুডেন্ট কেবিনেট গঠিত হবে।
মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসায় স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন-২০১৭ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০ মার্চ। নির্বাচনী তফশিল অনুযায়ী গত ১৮ মার্চ মনোনয়ন দাখিল হয়েছে। আগামী ৩০ মার্চ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। এবছর নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে দেশের ১৬ হাজার ৫০৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬ হাজার ৪০২টি দাখিল মাদ্রাসা। এবার ১ লাখ ৮৩ হাজার ২৭২টি পদের জন্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ২ লাখ ৭১ হাজার ২৯৯জন। মোট ভোটার ১ কোটি ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫১ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ৫৪ লাখ ৬১ হাজার ১৯ জন।
/এসএমএ/এমএ/