গত ১৬ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের প্রেমতলায় ‘ছায়ানীড়’ ও ‘সাধনকুটির’ নামের কাছাকাছি দুটি বাড়িতে দুটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। পরে পুলিশের বিশেষায়িত টিমের অভিযানে চার জঙ্গি নিহত হয়।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৩ মার্চ সিলেটের শিববাড়ির আতিয়া মহলে আরও একটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। এই আস্তানায় জঙ্গিরা বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডোদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে। প্যারা-কমান্ডোরা চার দিনের অভিযানে তাদের পরাস্ত করে। ২৮ মার্চ সেনাবাহিনী অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে। এখানে একজন নারীসহ চারজন জঙ্গি নিহত হয়।
এদিকে, বুধবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ীতে একটি নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনে আরও একটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। এই আস্তানাটিও ঘিরে রেখেছে পুলিশ।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের জঙ্গি আস্তানার খবরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। আর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, জঙ্গিরা এখন তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল খুঁজে আস্তানা গড়ার চেষ্টা করছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জঙ্গিরা ধরা পড়ার পরও আত্মসমর্পণ না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তি অর্জন করেছে। সার্বিকভাবে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে জঙ্গিদের বেশ তৎপরতা রয়েছে। তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে চলতে পারছে।’
এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক আরও বলেন, ‘জঙ্গিরা একেবারে গ্রামে আস্তানা করতে পারবে না। তবে ছোট ছোট শহরগুলোতে তারা আস্তানা তৈরি করছে। কারণ এসব শহরে প্রতিবেশীদের মধ্যে আসা-যাওয়ার মানসিকতা বা সামাজিকতার চর্চা আগের চেয়ে কমে গেছে। তাই জঙ্গিরা সহজে আস্তানা গড়তে পারছে। তবে গ্রামে তারা এটা পারবে না। তারা মূলত শহরগুলোতেই মানুষের চোখের বা নজরদারির আড়ালে থাকছে।’
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সহেলী ফেরদৌস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সিলেট, মৌলভীবাজার ও কুমিল্লায় জঙ্গি আস্তানা খুঁজে পাওয়ায় সারাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের অংশ হিসেবে সারাদেশে পুলিশের জঙ্গিবিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে ও থাকবে।’
আরও পড়ুন-
ভোটের আগে কুমিল্লার জঙ্গি আস্তানায় কোনও অভিযান নয়: সিইসি
‘আমি চলে গেছি আল্লাহর রাস্তায়, মাকে বইলেন আমাকে যেন ক্ষমা করে দেয়’
/এআরআর/এপিএইচ/