এর আগে সকালে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে আদালতে হাজির হন থানার ওসি। গত ২০ মার্চ এফআইআর হিসেবে গণ্য না করার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তলব করেন হাইকোর্ট। সেদিন উচ্চ আদালত রুলসহ এই আদেশ দেন।
বুধবার ওসির পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকনউদ্দীন মাহমুদ তার ব্যাখ্যা দেওয়ার সময় আদালতকে বলেন, ‘ঘটনার দিন রাত ৯টা ৫১ মিনিটে বাঁশখালী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি লিপিবদ্ধ করে। আর তার ত্রিশ মিনিট পর এই মামলার এফআইআরও দাখিল করা হয়। যেহেতু একটা জিডি হয়ে গেছে, তাই আরেকটা এফআইআর পুলিশ গ্রহণ করেনি। তার এই ব্যাখ্যা শুনে হাইকোর্ট বিস্ময় প্রকাশ করেন, ‘এত অল্প সময়ে কিভাবে জিডি’র পর এফআইআর হতে পারে।’
এ বিষয়ে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী এ কে ফয়েজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে সুনির্দিষ্ট ২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় যাই। কিন্তু পুলিশ আমাদের অভিযোগ গ্রহণ করেনি। পরে তারা অজ্ঞাতনামা ১৫০-২০০ জনের বিরুদ্ধে জিডি করে।পুলিশ হত্যাকাণ্ডের মূল অপরাধীদের বাঁচাতেই এরকম করেছিল।আদালত রুল জারি করার পর এখন বাধ্য হয়ে জিডি এবং এফআইআর দেখাচ্ছে।’ ফয়েজ আশা প্রকাশ করে বলেন,‘আদালতের ক্রস চেকিংয়ের সময় এই বিষয়গুলো নিশ্চিতভাবে বেরিয়ে আসবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অপরাধীরা অনেক প্রভাবশালী। তাদের মূল হোতা লিয়াকত আলী ধানের শীষ প্রতীকে বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী।’
উল্লেখ্য, এই ব্যাখ্যা দেওয়ার পর ব্যাখ্যা সম্বলিত আইনজীবীর বক্তব্য এফিডেভিড আকারে দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৯ মে দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালত একইসঙ্গে ওসিকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
/ইউআই/ এপিএইচ/