ভুয়া নথি দিয়ে আসামিদের জামিন: আইনজীবীসহ গ্রেফতার ২

প্রতারক চক্রের কাছ থেকে উদ্ধার করা নকল সিলসহ অন্যান্য নথি


ভুয়া জামিননামা তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন মামলার আসামিদের জামিন করানোর অভিযোগে এক আইনজীবী ও তার সহকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে রাজধানীর বংশাল থানাধীন চানখাঁরপুল এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হলেও আজ রবিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের নাম অ্যাডভোকেট মো. আব্দুস সামাদ ও তার সহকারী মো. বনি আমিন।
মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন জানান, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে সুপ্রিম কোর্টসহ বিভিন্ন জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও বিভিন্ন জেলাখানার ডেপুটি জেলারদের নাম ব্যবহার করে বানানো ৮১টি সিল এবং জাল জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্ত করা ১৩টি মামলার আসামিদের কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।   

পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা তাদের কাছে স্বীকার করেছেন, আদালত ও পুলিশের বিভিন্নজনের সহযোগিতায় অর্থের মাধ্যমে বিভিন্ন মামলার এজাহার, জব্দ তালিকা, অভিযোগপত্র ইত্যাদি মূল্যবান কাগজপত্র সংগ্রহ করে তা জালিয়াতির মাধ্যমে বিকৃত ও পরিবর্তন করে আদালতে উপস্থাপন করতেন তারা। এভাবে অনেক দুর্ধর্ষ অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের জামিনে বের করে এনেছেন তারা।
তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা কাগজপত্রে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় ২০১৬ সালের ১৯ জুলাই দায়ের করা ইয়াবা সংক্রান্ত একটি মামলায় (মামলা নম্বর ২৮) ফজলুল করিম ওরফে ফজর আলী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। ওই মামলায় আসামিকে ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হলেও  সংশ্লিষ্টদের যোগসাজসে কারসাজির মাধ্যমে মাত্র ১৮০ পিস ইয়াবা দেখিয়ে জাল কাগজপত্র বানিয়ে আদালতে উপস্থাপন করে তার জামিন করায় এই প্রতারক চক্র। চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি আসামি ফজলুল করিম ওরফে ফজর আলী জামিনে মুক্ত হয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে যায়। একইভাবে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা আরেকটি মামলার কাগজপত্রে দেখা যায়, রাজধানীর মুগদা থানায় ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে দায়ের করা আরেকটি মামলায় (নম্বর ৩১) ৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো. হাসান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হলেও তার কাছেও ১৮০ পিস ইয়াবা দেখিয়ে নকল কাগজপত্রের মাধ্যমে তাকে জামিনে মুক্ত করে এই চক্র। এভাবে মোট ১৩ মামলার এফআইআর বিকৃত করার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ।
যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই ১৩ মামলার বিষয়ে আরও খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। এসব মামলার আসামি এখনও কারাগারে আছে নাকি বের হয়ে গেছে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। বের হয়ে গেলে তাদের আবারও গ্রেফতার করা হবে। এছাড়া, এই চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত তার সন্ধানেও নেমেছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির ডেপুটি কমিশনার (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমানসহ মহানগর দক্ষিণ বিভাগের ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/টিএন/