রবিবার আসাট গেটে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেট (আদালত-৩ ) মুহাম্মদ আব্দুস সালাম আদালত পরিচালনা করেন। নিউ ভিশন নামের একটি বাস থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই করেন আদালত। সেই বাসেরই যাত্রী ছিলেন দৈনিক সমকালের সাংবাদিক ইন্দ্রজিৎ সরকার।
ঘটনা প্রসঙ্গে ইন্দ্রজিৎ সরকার বলেন, ‘আমাদের বাসটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে থামানো হয়। প্রায় পনের মিনিটেও বাস না ছাড়ায় হেলপারের কাছে ভাড়া ফেরত চেয়েছিলাম। আমার তাড়া থাকায় অন্য বাসে যাওয়ার জন্য তাকে বারবার বলেছিলাম ভাড়া ফেরত দিতে। ’
ইন্দ্রজিৎ সরকার বলেন, ‘এক পর্যায়ে বাস থেকে নেমে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে হেলপারের কাছে ভাড়া ফেরত চাইলে, সে জোরে ধাক্কা দিয়ে মারতে এগিয়ে আসে। তাকে ঠেকাতে আমিও ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেই। এরপর সেখানে থাকা বাসের মালিকরা আমাকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে একজন পুলিশ সদস্য সেখান থেকে আমাকে উদ্ধার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে নিয়ে আসেন। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ জানালেও তিনি কোনও ব্যবস্থা নেননি। বরং তার সামনেই বাস মালিকরা হুমকি ধমকি দিচ্ছিলেন। বাস মালিকদের কেউ কেউ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেছেন,আমাকে যেন আটক করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট উল্টো আমাকে আচরণ ঠিক করতে বলেছেন। তিনি নাকি কিছুই দেখেননি। অভিযোগ থাকলে থানায় জানাতে বলেন।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর থানার উপপুলিশ পরিদর্শক জহির। তিনি বলেন, ‘একজন যাত্রীকে বাস মালিকরা ঘিরে ধরেন। আমি সেখান থেকে তাকে মোবাইল কোর্টে নিয়ে যাই। আমি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের অধীনে সেখানে কাজ করছিলাম। ফলে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশের বাইরে আমার কিছুই করার ছিল না।’
তবে কোনও মারামারির ঘটনা হয়নি বলে দাবি করছেন বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আব্দুস সালাম।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মারামারি হয়েছে কিনা আমি দেখিনি। এছাড়া, আমি মোটরযান আইনের অধীনে আদালত পরিচালনা করেছি। সেখানে এধরনের ঘটনার বিচার করারও সুযোগ নেই।’
বাস মালিকদের হুমকি প্রসঙ্গে মুহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয় রাস্তায়। সেখানে রাস্তায় কত মানুষ কত কথা বলেন, সব কথা শুনতে গেলে কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব না। কোনও বাস মালিক হুমকি দিয়েছেন কিনা আমি শুনিনি। কোর্ট ছেড়ে আমার সেখানে যাওয়াও সম্ভব ছিল না। বরং পুলিশ যদি মারামারি দেখে থাকে, তাদের উচিত ছিল যারা জড়িত তাদের আটক করা।’
এদিকে রবিবার দুপুরে বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তরের বার্তা প্রযোজক আতিক রহমানকে ‘জাবালে নূর’ নামে একটি বাসের কর্মীরা মারধর করেছেন। এ প্রসঙ্গে আতিক রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি গুলশান থেকে মিরপুর যেতে জাবালে নূর বাসে উঠি। লোকাল হিসেবেই তারা সিটের বেশি যাত্রী ওঠালেও অতিরিক্তি ভাড়া দাবি করছিল। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দেখাতে বললেও বাসটির হেলপার বাজে মন্তব্য শুরু করে। এক পর্যায়ে সে আমার নাকে ঘুষি মেরে বসে। তখন বাসের অন্য যাত্রীরা আমাকে উদ্ধার করেন।’ এ বিষয়ে মিরপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন আতিক রহমান।
/সিএ / এপিএইচ/