জুরাইনে স্কুলে কিশোরীকে গণধর্ষণ: দারোয়ানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

আইন-আদালতরাজধানীর কদমতলীর পূর্ব জুরাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে এক কিশোরীকে (১৫) আটকে রেখে গণধর্ষণের মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আসামি ওই স্কুলের দারোয়ান স্বপন। শুক্রবার (৫ মে) বিকালে কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি ওয়াজেদ জানান, এ ঘটনার পর গত ১ মে কদমতলী থানায় বাদী হয়ে কিশোরীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে গ্রেফতারকৃত বিদ্যালয়ের দারোয়ান স্বপন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে দোষ স্বীকার করেছে। অন্য সাত আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সূত্রাপুরের বাসিন্দা ওই কিশোরী পূর্ব জুরাইনে বোনের বাসায় বেড়াতে আসতো। এর মধ্যে শাওন নামে জুরাইনের এক ছেলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তাদের নিয়মিত কথাও হতো।
গত ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় শাওন ফোন করে মেয়েটিকে নিয়ে এসে পূর্ব জুরাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের দারোয়ান স্বপনের কাছ থেকে চাবি নিয়ে একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখে। এরপর শাওন ও স্বপন তাদের পরিচিত আরও কয়েক বখাটেকে ডেকে ওই কক্ষের ভেতরে কিশোরীকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে।
পরবর্তীতে গভীর রাতে ধর্ষকরা ওই কিশোরীকে একটি রিকশায় তুলে দেয়। রিকশাটি রাতে জুরাইনের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মেয়েটিকে তার বোনের বাসায় নিয়ে যায়। পরদিন ৩০ মে বিষয়টি স্থানীয় বিশিষ্টজনদের জানানো হয়। তারা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে বাদী হয়ে ওই কিশোরী কদমতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় শাওন এবং দারোয়ান স্বপন ছাড়াও মুন্না, জলিল, বিশাল, মাসুম, মজিদ ও তানজিল ওরফে তাজুকে আসামি করা হয়েছে।
কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াজেদ আরও বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে তার মায়ের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় পাঁচ জন ছিল বলে স্বপনের স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে। আমরা বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। তদন্ত শেষে জড়িতদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।’

/এআরআর/জেএইচ/