মঙ্গলবার (১৬ মে) বিকালে পুলিশ সদর দফতরে আইজিপি এই মন্তব্য করেন। এর আগে পুলিশ সদর দফতরের সম্মেলনকক্ষে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জঙ্গিদের হামলায় নিহত ফায়ার সার্ভিসকর্মী আব্দুল মতিনের স্ত্রী-সন্তান ও আহত পুলিশ সদস্যদের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন তিনি। অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহম্মদ খান উপস্থিত ছিলেন।
নিহত আব্দুল মতিনের স্ত্রী তানজিলা বেগম, মেয়ে জেসমিন আক্তার (১৫) ও ছেলে আব্দুল্লাহ আল মারুফ (১১) এবং মতিনের ছোট ভাই মো. মোস্তাকিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এসময় মতিনের স্ত্রীর হাতে সাত লাখ ও তার মায়ের জন্য ছোট ভাইয়ের হাতে তিন লাখ টাকা তুলে দেন আইজিপি।
গত ১১ মে গোদাগাড়ীতে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সময় কুপিয়ে ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আব্দুল মতিনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এই অভিযানটি অপরিকল্পিত ছিল বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে শতাধিক পুলিশ থাকার পরও জঙ্গিরা আস্তানা থেকে বের হয়ে দুইশ গজ দূরে থাকা ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের ধাওয়া ও একজনকে হত্যা করে। অভিযানে থাকা পুলিশ তখন জঙ্গিদের ঠেকাতে পারেনি।
পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ‘আমি সারারাত এসপি, ডিআইজি ও সিটির (সিটিটিসি ইউনিট) সঙ্গে কথা বলেছি। পুলিশ সদর দফতরের টিমও সেখানে ছিল। সকালে আমি এসপির কাছে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাই। তিনি আমাকে জানালেন, ভেতরে এই কজন আছে। আমি তাদের বললাম, ‘তোমরা স্প্লিন্টার এরিয়ার বাইরে থাকো যেন বোমা নিক্ষেপ করলেও তোমাদের কাছে না আসে। কখনও রিস্ক নেবে না। সেভাবেই তারা দাঁড়িয়েছিলেন। তবে জঙ্গি আস্তানার দেয়ালে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানি দিচ্ছিলেন। তারা ভেবেছিলেন, মাটির দেয়াল পানি দিলে ভেঙে যাবে। কিন্তু কখনও কখনও মাটির দেয়াল কংক্রিটের চেয়েও শক্ত হয়। পানি দিতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সামনে চলে যান। সাধারণত জঙ্গিরা ভেতর থেকে সহজে বের হয় না। তারা আস্তানার ভেতরেই একসঙ্গে আত্মঘাতী হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই ওই আস্তানা থেকে নারী-পুরুষ জঙ্গি বের হয়ে আসে। এসেই তারা আক্রমণ শুরু করে। তারা বের না হলে এই ঘটনা ঘটত না।’
আইজিপি বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে গেলে দু’পক্ষেরই ক্ষয়ক্ষতি হয়। এটা বলা যাবে না যে যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু প্রতিপক্ষের ক্ষতি হবে, আমাদের হবে না। আমাদের অনেক মেধাবী অফিসার জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চলাকালে শহীদ হয়েছেন। জঙ্গি অভিযানে আমাদের অনেক সফলতা রয়েছে। আমরা একটি ঘটনার পর তা থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে পরে কাজে লাগাই। প্রতিটি ঘটনা থেকেই আমরা শিক্ষা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ঢাকা থেকে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করেছি। স্থানীয় পুলিশ সাহস করে অভিযান চালিয়েছে। ঢাকা থেকে সিটি, সোয়াট টিম যেতে সময় লাগত। এই ঘটনাটি না ঘটলে অভিযানটি সফলই ছিল।’
পুলিশ প্রধান বলেন, ‘আমরা ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থাকে নিয়ে একসঙ্গেই কাজ করি। দিনদিন আমাদের সাহস বাড়ছে, সক্ষমতা বাড়ছে। আমরা এভাবেই জঙ্গি মোকাবিলায় এগিয়ে যাব, আরও সফল হব। আর এই সাফল্যের কৃতিত্ব এককভাবে কারও না, এতে সবার অবদান আছে।’
উল্লেখ্য, গত ১১ মে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার মাটিকাটা ইউনিয়নের বেণীপুর গ্রামে জঙ্গি সাজ্জাদ আলীর বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিট পুলিশের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে এই অভিযানে অংশ নেয়। অভিযান চলাকালে জঙ্গিদের হামলায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আব্দুল মতিনসহ ১০/১২ জন পুলিশ সদস্যসহ আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা আব্দুল মতিনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত পুলিশ সদস্যরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও পড়ুন-
সেলিমের বাড়ির পেছন থেকে ৫টি বোমা উদ্ধার
ঝিনাইদহের দুই জঙ্গি আস্তানায় অভিযান স্থগিত
/এআরআর/এপিএইচ/টিআর/