সংবাদ সম্মেলনে হীরা খানম বলেন, ‘টাকার সঙ্গে আমার সংসারে বাড়তে থাকে অশান্তি। এর মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ছয় বছরের শিশু সন্তানকে আমার বুক থেকে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। এর মাধ্যমে আমাকে ফাঁসাতে চেয়েছিলেন সাবেক স্বামী মাসুম রেজা।’
হীরা খানম আরও বলেন, ‘একসময় নৌ বাহিনীতে নাবিক পদে চাকরি করতেন মাসুম রেজা। সেখান থেকে পালিয়ে এসে আর চাকরিতে ফিরে যাননি তিনি। ওই সময় তিনি বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করতেন। পাঁচ-ছয় বছর আগে তিনি আমেরিকান একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ এজেন্ট অফিসে নিম্নপদের একটি চাকরিতে যোগ দেন। দু’বছরের মধ্যেই কোম্পানি ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। তবে কোম্পানিতে থাকাকালে তিনি কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেছেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার পর নিজের পাসপোর্ট ব্যবহার করে অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি।’
হীরা খানম বলেন, ‘অবৈধ আয়ের ওই কোটি-কোটি টাকাই তার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়ায়। একসময় সে পরকীয়াসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদ করায় আমার ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত তাকে তালাক দিয়েছি।’
হীরা খানমের অভিযোগ, মামলাসহ বিভিন্নভাবে তাকে হয়রানি করার চেষ্টা করেছেন সাবেক স্বামী মাসুম রেজা। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকবার সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সন্তানকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে রামপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন হীরা খানম। জিডির তদন্তে অপহরণে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় মাসুম রেজা ও তার ভগ্নিপতি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্বদ্যিালয়ের ক্লার্ক আলমগীর হোসেন খাঁনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে সংশ্লিষ্ট থানা। এরপর থেকে মামলার সাক্ষীদের হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন হীরা খানম।
আরও পড়ুন-
ষোড়শ সংশোধনীর আপিল: আরও শুনানি সোমবার
মতিঝিল থানার ওসিসহ ৪ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা
/জেইউ/টিআর/