ইরাকে জিম্মি বাংলাদেশি যুবক, ঢাকায় ২ পাচারকারী গ্রেফতার

গ্রেফতারইরাকে নাসির নামে একজন বাংলাদেশি যুবককে জিম্মি করে, ঢাকায় তার পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা নিতে এসে মানবপাচার চক্রের দুই সদস্য র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের এক নম্বর গেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা  হলেন, মো. আব্দুল কুদ্দুস (৪০) ও মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (৩৫)। র‌্যাব-৩ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. মনজুরুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘নাসিরকে মানবপাচারকারীরা ইরাকে জিম্মি করে। তার ওপরে শারীরিক নির্যাতন চালানোর সময় বাড়িতে ফোন দিয়ে তার পরিবারকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে পাচারকারীরা। নাসিরের বাবা ফারুক শেখ এ বিষয়ে র‌্যাব- ৩ এর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর র‌্যাব বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। আজ  মঙ্গলবার বিকালে চক্রটির দুই সদস্য আব্দুল কুদ্দুস ও জাহিদ মুক্তিপণ নিতে আসলে তাদের গ্রেফতার করা হয়।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, ফারুক শেখ অভিযোগ  করেছেন, তার ছেলে নাসিরকে ৭০ হাজার টাকা মাসিক বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ইরাকে পাঠানোর প্রস্তাব করেন ইউসুফ নামে এক ব্যক্তি। এজন্য ইউসুফের সঙ্গে তাদের মধ্যে সাড়ে চার লাখ টাকার চুক্তি হয়। এরপর ইউসুফের হাতে পুরো টাকা দেওয়া হয়। এরপর ইউসুফ, কুদ্দুস ও জাহিদ মিলে নাসিরকে ইরাকে অবস্থানরত লিলু মিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়ে দেন।

র‌্যাব জানায়, লিলু মিয়া জালিয়াতি ও প্রতারণা করে ইরাকে অবস্থান করছেন। তিনি সুমন নামে এক ব্যক্তির পাসপোর্ট  ও ভিসা জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে সুমন নামে ইরাকে বসবাস করছেন।তিনি মানবপাচারসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘নাসির ইরাকে পৌঁছালে লিলু মিয়া ওরফে সুমন তাকে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। নাসিরকে মারধরের শব্দ মোবাইল ফোনে তার পরিবারকেও শোনান হয়। পাচারচক্রটি নাসিরের পরিবারের কাছে আরও চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে তারা নাসিরকে মেরে হাত-পা ভেঙে ফেলার হুমকি দেন। এমনকি তাকে হত্যা করে লাশ মরুভূমির বালিতে চাপা দিয়ে রাখার কথাও জানান। নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে নাসির তার পরিবারকে যেভাবে হোক চার লাখ টাকা জোগার করে দিতে বলেন।

মানবপাচার চক্রটির একটি দল ঢাকাতে সক্রিয় উল্লেখ করে র‌্যাব জানায়, লিলুর ভাই শামীম অথবা কুদ্দুসের কাছে টাকা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন নাসির। পরবর্তীতে নাসিরের বাবা ফারুক শেখ দিশেহারা হয়ে ইউসুফের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এবার ইউসুফ নিজেই মুক্তিপণের টাকা চেয়ে বসেন। কিন্তু ইরাক থেকে পাচারকারী লিলু মিয়া মুক্তিপণের চার লাখ টাকা কুদ্দুস, শামীম কিংবা জাহিদকে দেওয়ার জন্য বলে। টাকা কিভাবে এবং কোথায় দিতে হবে জিজ্ঞাসা করলে লিলু মিয়া ফোনে জানান, ‘আপনি চার লাখ টাকা নিয়ে পুরানা পল্টন এলাকায় গিয়ে আমাকে ফোন দেন। আমার লোক এসে সেখান থেকে টাকা নিয়ে যাবে।’ তার কথা মতো নাসিরের বাবা ফারুক শেখ মঙ্গলবার বিকাল তিনটার দিকে পুরানা পল্টন এলাকায় আসেন। তিনি র‌্যাবকেও বিষয়টি জানান। এরপর র‌্যাব-৩ এর সিপিএসসি’র একটি দল ফারুক শেখের আশেপাশের এলাকায় অবস্থান নেয়। পল্টনে পৌঁছে ফারুক শেখ লিলু মিয়াকে পুনরায় ফোন দেন। এসময় লিলু মিয়া জানান, ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের এক নম্বর গেটে থাকেন, আমার লোক এসে টাকা নিয়ে যাবে।’ বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের এক নম্বর গেট এলাকায় ফারুক শেখের কাছ থেকে টাকা নিতে আসে আব্দুল কুদ্দুস ও জাহিদুল ইসলাম। এসময় র‌্যাব তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার হওয়া আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানার আতকা পাড়ায়। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল হেকিম। জাহিদুল ইসলাম জাহিদের গ্রামের বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জে।

এদিকে নাসির ইরাকে লিলু মিয়ার হাতে এখনও জিম্মি রয়েছেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব। র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নাসিরকে উদ্ধারে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। 

/এআরআর/ এপিএইচ/