গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাপানি রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবি। শনিবার সকাল ৭টা ২২ মিনিটে কড়া পুলিশ পাহারায় তিনি হলি আর্টিজান বেকারিতে প্রবেশ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি ৭টা ২৮ মিনিটে বের হন।
এসময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ডিএমপির গুলশান বিভগের পুলিশকর্মকর্তারা ছিলেন। এরপর নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসার কথা রয়েছে- ইতালীর নিহত স্বজন ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধি দল। এছাড়াও নিহত ব্যক্তিদের স্বজন, পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ারও এখানে আসার কথা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখাগেছে, ভোর ৫টা থেকেই গুলশান এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ৭৯ সড়কে প্রবেশ মুখের সব সড়কে পুলিশের বেরিকেড দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এ হামলার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে গুলশান ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। এমনকি হলি আর্টিজান বেকারির প্রবেশমুখগুলো পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে।
এ বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘এখানে জাপানি রাষ্ট্রদূত, জাইকা প্রতিনিধি এবং ইতালীর নিহতের স্বরজনরা শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন। সবকিছু বিবেচনা করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’
গত বছরের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে নারকীয় জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি ২০ নাগরিক ও দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়। জঙ্গিরা প্রায় ১২ ঘণ্টা অবরোধ করে রেখেছিল রেস্টুরেন্টটি। পরদিন (২ জুলাই) সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে নিহত হয় পাঁচ জঙ্গি। এসময় সাইফুল ইসলাম চৌকিদার নামে ওই রেস্তোরাঁর একজন শেফও নিহত হন। এছাড়া, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত দিন পর মারা যান আরেক শেফ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ১৭ জন বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইতালিয়ান নয় জন, জাপানি সাত জন ও একজন ভারতীয় নাগরিক। নিহত বিদেশি নাগরিকদের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাদের স্বজন ও অন্যান্য বিদেশি নাগরিকরা সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। এছাড়া, দেশি-বিদেশি প্রচুর সাংবাদিকও সংবাদ সংগ্রহের জন্য যাবেন রেস্টুরেন্টটিতে। এ কারণে ওই এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/জেএ/এআরআর/এসএনএইচ/এনআই