মধুর ক্যান্টিনের বর্তমান পরিচালক ও বাবুল চন্দ্র দে’র ভাই অরুণ চন্দ্র দে জানান, শুক্রবার সকাল ১০টায় পোস্তগোলা শ্মশানঘাটে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এখানে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম ’৭১-এর পক্ষ থেকে তাকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা প্রচার সম্পাদক ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর সাউথ ইস্ট ব্যাংকে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন বাবুল চন্দ্র দে। তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়ে ছাড়াও অগণিত ভক্ত এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
আমৃত্যু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন বাবুল চন্দ্র দে। ১৯৯১ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনে সক্রিয়দের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত গণআদালতে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতেও দেখা গেছে তাকে।
মধুদার ছয় মেয়ে আর পাঁচ ছেলের একজন বাবুল চন্দ্র দে। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধকালে ২৬ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে মধুদা এবং তার স্ত্রী যোগমায়া দে, ছেলে রণজিৎ কুমার, বৌমা রাণী দে ও মেয়ে রানু দে শহীদ হন।
বাংলাদেশের রাজনীতির ‘আঁতুড়ঘর’ হিসেবে মধুর ক্যান্টিনের খ্যাতি দেশজোড়া। মধুদা’র প্রতিষ্ঠিত ক্যান্টিনটি পাকিস্তান আমলে সংগ্রামী ছাত্রজনতাকে নানাভাবে সহায়তা করেছে।
/জেএইচ/