দুদকে জব্দ ডেসটিনির প্রায় ৮০০ কোটি টাকার সম্পত্তি

দুদক ডেসটিনিদুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জব্দ করা ডেসটিনির মোট স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৭৮৬ কোটি ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৪৮৭ দশমিক ৯৩ টাকা। রবিবার (৩০ জুলাই) আদালতের আদেশে সম্পত্তির এই হিসাব প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চে দাখিল করে দুদক। এরপর ডেসটিনির আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি দুই দিনের জন্য মুলতবি করেন আদালত।
আদালতে দাখিল করা হিসাব অনুযায়ী জব্দ করা নগদ অর্থ ১৫৩ কোটি ৮৪ লাখ ৭৯ হাজার ৫৯২ দশমিক ৯৩ টাকা। এছাড়া গাড়ি রয়েছে ১১২টি।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। এর আগে গত ১৬ জুলাই ডেসটিনির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জব্দ করা অর্থের পরিমাণ জানতে চেয়েছিলেন আপিল বিভাগ। দুদককে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে এ হিসাব দাখিল করতে বলা হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে দুদক রবিবার (৩০ জুলাই) হিসাব জমা দেয় আদালতে।

গত ১০ জুলাই এক আদেশে ডেসটিনির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা জমা আছে, তার প্রতিবেদন (ব্যাংক স্টেটমেন্ট) গত ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ওইদিন ডেসটিনির আইনজীবী জানান, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হিসাব বিবরণী দেয়নি। এরপর দুদকের কাছে হিসাব জানতে চেয়েছিলেন আদালত।

২০১২ সালের ৩১ জুলাই রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসেনসহ ডেসটিনি গ্রুপের ২২ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর কলাবাগান থানায় দু’টি মামলা দায়ের করে দুদক। ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেশন (এমএলএম) ও ট্রি-প্ল্যানটেশন প্রকল্পের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের মধ্যে তিন হাজার ২৮৫ কোটি ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ৫২৪ টাকা আত্মসাত করে পাচারের অভিযোগে মামলা দু’টি করা হয়।

গত বছরের ২০ জুলাই শর্ত সাপেক্ষে রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসাইনকে জামিন দেন হাইকোর্ট। পরে দুদকের আবেদনে তা স্থগিত করে দেন আপিল বিভাগ। এ আবেদনের শুনানির এক পর্যায়ে আত্মসাৎ করা টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত।

এরপর গত বছরের ১৩ নভেম্বর ডেসনিটির পক্ষ থেকে গাছ বিক্রি করে টাকা দেওয়ার কথা জানানো হয়। ওইদিন হলফনামা দিয়ে আদালতকে ডেসটিনি জানায়, তাদের কাছে ৩৫ লাখ গাছ আছে। প্রতিটি গাছ আট হাজার টাকায় বিক্রি করে দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা দিতে পারবেন তারা।

এর  প্রেক্ষিতে জামিনের শর্ত পূরণে আপিল বিভাগ কারাগারে থাকা দুই আসামির সঙ্গে গাছ বিক্রির সব কাগজপত্রে স্বাক্ষর ও আলোচনার সুযোগ দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশনের সিইও ড. শামসুল হক ভূঁইয়া এমপির তত্ত্বাবধানে সব কাজ সম্পন্ন হবে। যদি গাছ বিক্রি করে দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা দিতে না পারেন, তাহলে নগদ দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দেবেন তারা। এর অনুলিপি দুদক চেয়ারম্যানকে পাঠাতে হবে। এরপর ক্ষতিগ্রস্তদের যাচাই করে তাদের কাছে টাকা হস্তান্তরের পর জামিনে মুক্তি পাবেন দুই কর্মকর্তা। কিন্তু কয়েক মাস পর তারা এ আদেশ সংশোধন চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে কারাগারে থাকায় এ শর্তপূরণ সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করেন তারা। এ আবেদনের শুনানিতেই আদালত ডেসটিনির জব্দ করা অর্থের পরিমাণ তলব করেন।

/এমটি/এসএমএ/