ডাকসুর দাবিতে উন্মুক্ত আলোচনার আহ্বান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়আগামী ১০ আগস্ট ডাকসু নির্বাচন বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য এবং সব ছাত্রসংগঠনকে মধুর ক্যান্টিনে উন্মুক্ত আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন ওই দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

গত শনিবার (২৯ জুলাই) ‘ভিসি প্যানেল’ নির্বাচনের লক্ষ্যে ডাকা সিনেটের অধিবেশনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের বাইরে ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর শিক্ষক ও প্রশাসনের হামলার বিচারের দাবিতে বুধবার (০২ আগস্ট) দুপুরে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা এ আমন্ত্রণ জানান। এ বিষয়ে স্বাধীনতাবিরোধী ব্যতীত বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও উপাচার্যকে চিঠি দেওয়া হবে বলেও তারা জানিয়েছেন।

সমাবেশে ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক মাসুদ আল মাহ্দী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র মীর আরশাদুল হক, থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র রাগীব নাঈম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মাসুদ আল মাহ্দী বলেন, ‘আমরা সেদিন আমাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়েছিলাম। গেটের ভেতরে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকরা আমাদের পাগল আখ্যায়িত করে নানান হুমকি-ধমকি দেন। যে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকারের স্বীকৃতি দিতে চায় না, আমরা তাদের শিক্ষক বলে মনে করি না। শিক্ষক ছিলেন মুনীর চৌধুরী। শিক্ষার্থীদের অধিকারের জন্য যিনি কারাভোগ পর্যন্ত করেছেন। শিক্ষক ছিলেন হুমায়ুন আজাদ। শামসুন্নাহার হলে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় যিনি শাহবাগে ছুটে গিয়েছিলেন প্রতিবাদ জানাতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আরেফিন সিদ্দিক স্যার প্রথম মেয়াদে উপাচার্য হয়ে বলেছিলেন ডাকসু নির্বাচনের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেবেন। কিন্তু তার বর্তমান প্রশাসনের আচরণে বোঝা যায় তিনি ডাকসু নির্বাচন চান না। ন্যায়ের পক্ষে আন্দোলন বিশৃঙ্খলা নয়। বঙ্গবন্ধুও ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।’

মীর আরশাদুল হক বলেন, ‘অনেকে বলছেন এটা বামদের আন্দোলন। যারা মুখে ডাকসু চাইলেও আসলে চান না, তারাই এই মিথ্যাচার চালাচ্ছেন।’

রাগীব নাঈম বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা ও সংকটগুলো সমাধানের পথ তৈরি হবে। নামে-বেনামে ফি আদায় ও বাড়ানো বন্ধ হবে। দাস নয়, মানুষ হওয়ার জন্যই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। সেই মানুষ হয়ে ওঠার জন্য যে স্বাধীনতা ও চর্চার পরিবেশ দরকার,তার জন্য ডাকসু নির্বাচন দরকার।’

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি অপরাজেয় বাংলা থেকে শুরু হয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে টিএসসি হয়ে কার্জন হলে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচন ছাড়াও সহকারী প্রক্টর রবিউল ইসলাম ও শিক্ষার্থীদের ওপর মারমুখী হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিচার দাবি করা হয়৷

/এএম