গৃহকর্মীর মৃত্যু: থমথমে বনশ্রী

বনশ্রীতে পুলিশের অভিযানগৃহকর্মী মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে পুলিশ। তবে এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শুক্রবার (৪ আগস্ট) দুপুরে এ পরিস্থিতির সূত্রপাত হওয়ার পর রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে গৃহকর্তা মঈনুদ্দিন ও বাড়ির কেয়ারটেকার কামালকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, বনশ্রী জি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়ি থেকে লাইলী (২৫) নামের এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আহত হয়েছেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। সন্ধ্যার আগে উত্তেজিত এলাকাবাসী গাড়িতে আগুন দেয়। 

এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে গৃহকর্তার ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুপুরের পর থেকে সেখানে অবস্থান নেয় পুলিশের কয়েকটি টিম। এলাকাবাসীর সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া চলে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকদফা টিয়ার শেল ছোড়ে পুলিশ।

বনশ্রীতে পুলিশের অভিযানএ বিষয়ে মতিঝিল বিভাগের এডিসি মোনালিসা বেগম রাত ১০টার দিকে বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কিছু টিয়ারশেল ছোঁড়া হয়। জনতার ইটপাটকেলের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশ আহত হয়েছেন। তবে কারও অবস্থাই গুরুতর নয়।’

উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর বিকেলে খিলগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার নাদিয়া জুই বলেন, ‘গৃহকর্তা মঈনুদ্দিন ও তার বাড়ির কেয়ারটেকার কামালকে বিকাল চারটার দিকে আটক করেছে খিলগাঁও থানার পুলিশ।’

বনশ্রীতে গৃহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়নাদিয়া জুই আরও বলেন, ‘দুপুর দু’টার বনশ্রী এলাকায় গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের খবর পাই। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে টহল টিম পাঠাই। কিন্তু তার আগেই লাশটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের টহল টিম ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর সেখানে কোনও লাশ পাইনি। পরে টহল টিমের পাঠানো সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের আরেকটি টিম পাঠানো হয় হাসপাতালে। গৃহকর্মীর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে যাওয়ার পর থেকে গৃহকর্মীর স্বজন ও স্থানীয়রা গৃহকর্তার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় উত্তেজিত এলাকাবাসীর ছোড়া ঢিলে অভিযুক্ত গৃহকর্তার বাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়। সেখানে বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করেন স্থানীয়রা।’

গৃহকর্মীর মৃত্যুর ব্যাপারে নিহত গৃহকর্মী লাইলীর (২৫) স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী নুরুন্নাহার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি নিজেও ওই বাসায় তৃতীয় তলায় কাজ করি। সকাল দশটার দিকে বাড়ির কেয়ারটেকার কামাল আমাকে লাইলীর মৃত্যুর খবর দেন। আমি সেখানে গিয়ে দেখি লাশটি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে। তার পায়ের নিচে একটি মোড়া রাখা ছিল। দরজা খোলা ছিল তখন। সব দেখে আত্মহত্যা বলে মনে হয়নি। মনে হয়েছে, লাইলীকে মারার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।’

গৃহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় গৃহকর্তা ও কেয়ারটেকার আটকঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার আনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সন্ধ্যার পর থেকে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে। বাড়ির আশেপাশের অন্তত চারটি রাস্তার মাথায় অবস্থান নিয়েছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকদফা টিয়ার শেল ছুড়েছে পুলিশ।’

স্থানীয়রা জানান, গৃহকর্তা মঈনুদ্দিন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ওই এলাকায় গৃহকর্মীদের দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ। এর আগেও এই বাসায় গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানান।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (৪ আগস্ট) বনশ্রী জি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়ি থেকে লাইলী (২৫) নামের এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।  এ ব্যাপারে গৃহকর্তা মঈনুদ্দিন জানান, লাইলী তার বাসায় প্রতিদিন সকালে কাজ করতে আসেন। শুক্রবার সকালে বাসায় কাজ করতে এসেই একটি কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন লাইলী। ডাকাডাকির পর দরজা না খোলায় দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় লাইলীকে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে সেখানকার চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন

গৃহকর্মীর মৃত্যু: উত্তপ্ত বনশ্রী, গৃহকর্তা ও কেয়ারটেকার আটক (ভিডিও)

/আরজে/এমএ/এসএমএ/