বিশ্বজিৎ হত্যা: তদন্ত কর্মকর্তা ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড। ফাইল ছবি

বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে মামলার সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের মিল না থাকায় তদন্ত কর্মকর্তা ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (৬ আগস্ট) এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

এ সময় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমানের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের আইজি’কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ময়নাতদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত ডাক্তারের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত এ বিষয়ে ফলোআপ করতে আইনজীবী মনজিল মোরসেদকে দায়িত্ব দিয়েছেন। 

এ ব্যাপারে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদালত আমাকে এই ফলোআপটি রাখার দায়িত্ব দিয়েছেন বলে আমি জেনেছি। এ ব্যাপারটি যেন যথাযথভাবে খোঁজ রাখা হয় সেজন্যই আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবেই পালন করবো।’

এ ব্যাপারে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, এই মামলায় আদালত দেখতে পান যে, পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদন এবং ডাক্তারের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে ঘটনার সময়ে ধারণ কার ভিডিও ফুটেজের মিল নেই। ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন সাক্ষীর বক্তব্য অনুসারে বিশ্বজিতের শরীরে একাধিক আঘাতের কথা থাকলেও, মামলার বিচারিক নথি হিসেবে দায়ের করা সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এত আঘাতের তথ্য উল্লেখ করা নেই। এ কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে কোনও অবহেলা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

/ইউআই/এএইচ/