নিম্ন আদালত এ হত্যা মামলায় ৮ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও বাকি ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। রবিবার (৬ আগস্ট) মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামির মধ্যে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল,চারজনকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে খালাস দেন।
সেদিনের স্মৃতিচারণ করে নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘সেদিন হরতাল ছিল। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমি বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে পৌঁছে যাই। সেখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের হরতাল বিরোধী অব্স্থান ছিল। কিছু সময় পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিএমএম কোর্টের দিকে হরতালের সমর্থনে মিছিল যেতে দেখি। সেই মিছিল বাধা দিতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পাশপাশি হরতাল বিরোধী অবস্থানে যারা ছিল, তারাও লাঠি নিয়ে সেই মিছিলের দিকে এগিয়ে যায়। সেই সময়ই কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। আতংকে পুরো এলাকা জনমানবশূন্য হয়ে পড়ে। তখন হরতাল সমর্থনকারীরা সরে পড়ে। এরপর পুরো এলাকা নিরব হয়ে পড়ে। এর কিছু সময় পর ছাত্রলীগ সেখানে হরতালবিরোধী মিছিল শুরু করে।বেশ কিছু গণমাধ্যমকর্মী তখনও সেখানে ছিলেন।’
বিশ্বজিতের ওপর হামলার বর্ণনা দিয়ে নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘পেটাতে পেটাতে তাকে নিচে নামানো হয়। কয়েকজন মিলে রড, লাঠি, চাপাতি দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। আমরা ছবি তুলতে গেলে তখন ছাত্রলীগ কর্মীরা আমাদের চাপাতি দেখায়, সরে যেতে ইশারা করে। ছেলেটি বাঁচার জন্য বারবার আকুতি করলেও ক্রমাগত আঘাত করা হয় লাঠি, রড, চাপাতি দিয়ে। আঘাতে তার শরীর তখন রক্তাক্ত। রক্তে পুরো শার্ট ভিজে উঠেছে। বিশ্বজিৎ দাস চিৎকার বলছিল- সে রাজনীতি করে না, সে রাজনৈতিক দলের কর্মী নয়, সে টেইলার্সের দোকানে কাজ করে। তবে তার কথা কেউ শোনেনি। এক পর্যায়ে সেখানে পড়ে যায় সে। পরে হামলাকারীরা কিছুটা থামলে সেখান থেকে দৌড়ে সরে যায় বিশ্বজিৎ। পরে জেনেছি সে মারা গেছে।’
/সিএ/এএম