ছাত্র রাজনীতির নামে কিছু ছাত্র হত্যা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করে থাকে। তারা মনে করে এতে তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ হবে। তাদেরকে কিছু রাজনৈতিক নেতা উৎসাহিতও করে। বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় ঘোষণাকালে ছাত্র রাজনীতির নীতি ও কৌশল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিচারপতি এ মন্তব্য করেন। আদালত বলেন, “এটা পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড না হলেও আসামিদের সম্মিলিত হামলার ফলেই বিশ্বজিতের মৃত্যু হয়েছে।”
বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দু’জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালত বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা এধরনের নেতাদের দ্বারা নির্যাতিত হয় যদি তারা দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ না নেয়। এটা অ্যালার্মিং। এসব ছাত্রনেতাকেই ভবিষ্যৎ জাতীয় নেতা ভাবা হয়ে থাকে। ছাত্র রাজনীতির কৌশল (পলিসি) সঠিক নয়।
২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের অবরোধে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একটি মিছিল থেকে হঠাৎই ধাওয়া করে কুপিয়ে ও পিটিয়ে বিশ্বজিৎকে হত্যা করা হয়। আসামিরা সবাই ক্ষমতাসীন দলের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মী। ছাত্রসংগঠনের এই দিকগুলোর সমালোচনা কর আজকের রায়ে আদালত পর্যবেক্ষণ অংশে বলেন, বর্তমানে ছাত্রনেতারা হলের রুম পর্যন্ত ভাড়া দেয়। তারা দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বিশ্বজিৎ হত্যা: শুধু দু’জনের ফাঁসি বহাল, সাজা কমলো আট জনের
বিশ্বজিৎ হত্যা: তদন্ত কর্মকর্তা ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
ছাত্রলীগের চারজন খালাস, দণ্ড কমলো ৪ জনের
ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে ময়নাতদন্তের কোনও মিল নেই: হাইকোর্ট
রায়ে অসন্তুষ্ট বিশ্বজিতের পরিবার
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ড
যে চার ছাত্রলীগ নেতা খালাস পেলো
মৃত্যুদণ্ড পাওয়াদের দুইজন খালাস
রায়ে খুশি খালাস গোলাম মোস্তফার আইনজীবী
/এমটি/ইউআই/টিএন/