ঢাবিতে শিবিরকর্মী সন্দেহে এক ছাত্রকে পুলিশে সোপর্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবিরের কর্মী সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। শুক্রবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাতে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুক্রবার রাতে শিবির সন্দেহে ঢাবি প্রশাসন একজনকে থানায় সোপর্দ করেছে। তার বিরুদ্ধে শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, আমরা এটা তদন্ত করে দেখছি। তবে আটক জাহিদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই।’
জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১০টা থেকে দিবাগত রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এসএম হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শিবির সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাদের মধ্যে মুজাহিদুল ইসলাম জাহিদ নামের ওই ছাত্রকে শিবিরকর্মী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তিনি ঢাবির আরবি বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
ঢাবি’র ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এ এম আমজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘জাহিদের বিরুদ্ধে শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আমাকে বিষয়টি জানালে হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাকে পুলিশে সোপর্দ করি।’

এসএম হল ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে সরকারবিরোধী নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জাহিদের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তার ফেসবুক চেক করা হলে ঘটনার সত্যতা পান ছাত্রলীগ কর্মীরা।

সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জাহিদ শিবিরের পক্ষে এসএম হলে কাজ করতো। তার উদ্দেশ্য ছিল হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। ফেসবুকে দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু ও দেশনেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পরিচালিত জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন পেজে তার লাইক ও কমেন্ট আছে। শিবিরের কয়েকজন বির্তকিত নেতার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ হতো, এটা আমরা তার ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।’
গত ৭ আগস্ট সিলেটের জালালাবাদে দুর্বৃত্তের হামলায় ছাত্রলীগের দুই কর্মী মারাত্মক আহত হন। তাদের মধ্যে মদনমোহন কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী শাহীন আহমদকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ কারণে কেটে ফেলতে হয়েছে তার হাত। শাহীনের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার পীরপুর টুকেরবাজারে। এ ঘটনার জন্য শিবিরকে দায়ী করেছে ছাত্রলীগ।

৯ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সমাবেশে শিবিরের বিরুদ্ধে ‘অ্যাটাকে’ যেতে নির্দেশ দেন সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস.এম. জাকির হোসাইন। এর পরদিন চট্টগ্রাম কলেজে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র গিয়াস উদ্দিনকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন ছাত্রলীগ কর্মীরা।

এর আগেও সিলেটের ঘটনার পরপর লক্ষ্মীপুরে দুই শিবির কর্মী এবং ৮ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে শিবিরের ১২ জন নেতাকর্মীকে উত্তম-মধ্যমের পর পুলিশে দেন ছাত্রলীগ কর্মীরা।

/জেএইচ/