আশকানোর হজ ক্যাম্পে সোমবার দুপুরেও আশা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন প্রায় শতাধিক হজযাত্রী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আশাহত হতে হয় তাদের। এদের মধ্যে হজ ক্যাম্পে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলেন দুই ভাই হেলাল উদ্দিন ও আবুল মনসুর। সঙ্গে রয়েছেন তাদের ৮০ বছর বয়সী মা মজিদা বেগম। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যার দিকে হজ ক্যাম্প থেকে রাজশাহীতে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তারা। আর আফসোস করে বলেন, ‘দালালের কারণে টাকা দিয়েও আম্মাকে হজে নিয়ে যেতে পারলাম না।’
হজ অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এবার ৩৬৭ জন সৌদি আরবে যেতে পারেননি। এর মধ্যে ৯৮ জন হজ অফিসে প্রতারণার অভিযোগ দিয়েছেন। বাকি ২৬৯ জনের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। এমন হতে পারে তাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ, কেউ স্বেচ্ছায় কিংবা কারও মাহরাম মারা যাওয়ার কারণে হজে যাননি। ফলে সঠিক সংখ্যা নিরুপণে আরও সময় লাগবে।’
এছাড়া, ২১ আগস্ট থেকে হজ ক্যাম্পে অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন রাজশাহীর আব্দুল মান্নান। ভিসা হলেও পাননি সৌদি আরবের উড়োজাহাজের টিকিট। তিনি বলেন, ‘আমি বাড়ি থেকে সবার বিদায় নিয়ে আসছি হজে যাচ্ছি বলে। এখন আমি কোন মুখ নিয়ে ফিরে যাবো।’ রাজশাহীর আতাউর রহমান নামের এক দালালের মাধ্যমে টাকা দিয়েছিলেন, বলে জানান তিনি।
এদিকে, হজ ক্যাম্প থেকে তিন দালালকে সোমবার দুপুরে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হল- আতাউর রহমান, সুমনা, ফরিদুর রহমান।
পীরগাছার নূর আলম চাকরি জীবনের শেষ সম্বল দিয়ে হজে যাবার নিয়ত করেন। এজন্য ৩ লাখ টাকা তুলে দেন ইকো এভিয়শন অ্যান্ড ট্যুরিজমের কাছে। ১৫ আগস্ট তাকে ফ্লাইটের কথা বলে হজ ক্যাম্পে আনা হয়, এরপর ১২ দিন কেটে গেলেও নূর আলম যেতে পারেননি।
নূর আলম বলেন, ‘হজ ক্যাম্পে আমি এখন কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। হজ অফিসও ফাঁকা। চাকরি জীবনের সঞ্চিত সব টাকা নিয়ে পালিয়েছে দালাল চক্র।’
এছাড়াও আল সাফার ১৬ জন, সাউথ এশিয়ার ১৬ জন, ইকো এভিয়শন অ্যান্ড ট্যুরিজমের ১১ জন, গোন্ডেন এয়ারের ৮ জন, গুলশান মোহাম্মদীয়ার ৭ জন, ওলামা আউলিয়া হজ গ্রুপের ৭ জন, আল মদিনার ৬ জন, আশা এজেন্সির ৬ জন, সাঈদ এয়ার ট্রাভেলসের ৩ জন, ইউরেশিয়ার ২ জন, আল বালাদের ১ জন, আবাবিল এজন্সির ১ জনসহ মোট ৮৪ জন হজযাত্রী অভিযোগ দায়ের করেছেন।
যশোর বারাকাত উল্লাহসহ তিনজন অপেক্ষা করছিলেন ২৫ আগস্ট থেকে। রবিবার রাতেও ওলামা আউলিয়া হজ গ্রুপ নামের এজেন্সি জানিয়েছে তারা হজে যেতে পারবেন। কিন্তু সকাল থেকেই এজন্সির কেউ ফোন করছেন না, বলে জানান বারাকাত্ উল্লাহ।
অন্যদিকে, ভিসা পাওয়ার পরও প্রতারণার শিকার হয়ে যারা হজে যেতে পারেননি তাদের আগামী বছর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হজে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এক্ষেত্রে ওই সব যাত্রীদের অতিরিক্ত কোনও অর্থও দিতে হবে না। আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, কিন্তু তাদের পাঠানো যায়নি।’