পরে মনজিল মোরসেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা তো মানবাধিকার সংগঠন, মানবাধিকার রক্ষার জন্য কাজ করি। সেই হিসেবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে, তা আমাদের দৃষ্টিতে এসেছে এবং সেখানে অমানবিক ঘটনা ঘটছে। সে জন্যই এই স্মারকলিপি দেওয়া। আমরা বলেছি, একটি কমিশন গঠন করে যারা এই রকম নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিয়ে যাতে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং সর্বোপরি মানবাধিকার যাতে লঙ্ঘন না হয়।’
স্মারকলিপিতে বলা হয়,বিগত কয়েকমাস ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নির্যাতন সকলের নজর কেড়েছে। মিয়ানমারের আর্মিদের অ্যাটাকের কারণে রাখাইন রাজ্যে হাজার হাজার মুসলিম রোহিঙ্গা ঘরবাড়ি ছেড়েছে। শতশত রোহিঙ্গা নারী, শিশু, বৃদ্ধ মৃত্যুবরণ করেছে। অধিকন্তু কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যবর্তী নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছে। সেখানে তারা মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গা নির্যাতনের ইস্যুতে প্রতিবাদ করেছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানসহ বর্তমান মহাসচিব এবং জতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংগঠন ইউএনএইচআরসি এর প্রধান। একই সঙ্গে তারা এই সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।
রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের প্রতিবাদে স্মারকালিপিতে কয়েকটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হচ্ছে- ১. রাখাইন রাজ্য থেকে দ্রুত আর্মিসহ সরকারের অন্যান্য বাহিনী প্রত্যাহার এবং নির্যাতন বন্ধ করা। ২. নতুন করে কোনও রোহিঙ্গা যাতে আক্রান্ত না হয়। ৩. নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ন্যূনতম মৌলিক চাহিদার ব্যবস্থা করা। ৪. রোহিঙ্গা নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উদঘাটনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করা এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা। ৫. ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা। ৬. বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের অনতি বিলম্বে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং ৭. রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান করে এই সমস্যার দ্রুত কার্যকরী সমাধান করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী, এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া, সরওয়ার আহাম চৌধুরী, সৈয়দা শাহিন আরা লাইলী, মাহবুবুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান, হাফিজুর রহমান পাটোয়ারি, রেজাউল করিম, মো. আবুল কালাম আজাদ ও সঞ্জয় মণ্ডল।