প্রভোস্ট ও প্রক্টরদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি আরেফিন সিদ্দিক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়নতুন উপাচার্য নিয়োগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ অধ্যাদেশ লঙ্ঘন এবং বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দ্বৈতাচারের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি হলের প্রভোস্ট এবং প্রক্টররা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।  সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক তা গ্রহণ না করে তাদেরকে নিজ দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দিয়েছেন।
পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রভোস্ট এবং প্রক্টররা আমাকে একটি চিঠি দিয়েছেন। তারা জানান যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগেরে আদেশ ইস্যুতে যে প্রক্রিয়া করা হয়েছে, তাকে  ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের অবমানা করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী যে কৌশলে এগুলো করছেন তার প্রতিবাদে তারা অব্যহতি চান। কিন্তু আমি তাদের বলেছি, আমি অব্যাহতি দিচ্ছি না। আপনার আপনাদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখুন। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য আপনাদের দায়িত্ব পালন প্রয়োজন।
পদত্যাগপত্র দেওয়ার কারণ উল্লেখ করে তারা লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ-১৯৭৩’ এর লংঘন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রীর মিথ্যাচার ও দ্বৈতাচারের প্রতিবাদ জানিয়ে হলের প্রভোস্ট ও প্রক্টর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রার্থনা করছি।

গত সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে উপাচার্য হিসেবে সাময়িক নিয়োগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরপেই প্রভোস্ট ও প্রক্টররা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে মঙ্গলবার রাতে পদত্যাগপত্র নিয়ে অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকের কাছে যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি হলের প্রাধ্যক্ষ জানিয়েছেন, বিজয় একাত্তর হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, কবি জসীমউদ্দিন হল, এফ রহমান হল, বেগম রোকেয়া হল, শামসুন্নাহার হল, বেগম সুফিয়া কামালসহ ৯টি হলের প্রভোস্ট এবং প্রক্টররা পদত্যাগপত্র জমা দেন।

বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) নতুন নিয়োগ দেওয়া ড. মো. আখতারুজ্জামান উপাচার্যের দায়িত্ব বুঝে নেন।pro-du

 

সিনেট সদস্যদের বিবৃতি

এদিকে নতুন উপাচার্য নিয়োগে বিস্ময় প্রকাশ করে ৩৩ জন সিনেট সদস্য এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে গৃহীত সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ-১৯৭৩ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের মধ্যদিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্বশাসনের ওপর আঘাত এবং সিনেটকে অকার্যকর করার নানামুখী ষড়যন্ত্রের পথ সুগম হয়েছে।

বিষয়টিকে বিব্রতকর উল্লেখ করে বিবৃতিতে তারা বলেন, উপাচার্য নিয়োগের উদ্দেশ্যে গত ২৯ জুলাই সিনেট কর্তৃক তিন সদস্যের প্যানেল নির্বাচন নিয়ে একটি রিট আবেদন আদালতে বিচারাধীন এবং এই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক স্বপদে বহাল থাকবেন বলে উচ্চ আদালতের একটি সিদ্ধান্ত রয়েছে।

এমতাবস্থায় অন্য একজনকে (তিন সদস্যের প্যানেলের বাইরে) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সরকার, উচ্চ আদালত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিব্রতকর। নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার দুইদিনের মাথায় বুধবার দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।