মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব: আহমদ শফী

হাটহাজারী মাদরাসায় সভা শেষে মোনাজাতে অংশ নেন আহমদ শফীমিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা বিশ্ব সংস্থা ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর নৈতিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফী। মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) বিকালে চট্টগ্রামের দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসায় এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় আহমদ শফী বলেন, ‘রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষায় আরাকানে (রাখাইন রাজ্য) জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মোতায়েন করা একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। আরাকানে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্যে সেফ জোন তৈরি করতে হবে। মিয়ানমারের সরকার ও সেনাবাহিনীর বর্বরতার বিরুদ্ধে বিশ্বনেতাদের কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
আহমদ শফী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশা অবর্ণনীয়। তাদের অধিকাংশ নারী ও শিশু, তারা অভিভাবক হারিয়েছে। বিভিন্ন ক্যাম্প ও এলাকায় শরণার্থীরা শিশুখাদ্য, পানি, ওষুধ ও স্যানিটেশনের তীব্র সংকটে রয়েছে। এসব রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যার যার অবস্থান থেকে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসা প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। বিভিন্ন মিশনারি এনজিওগুলো যেন সেবার অন্তরালে অসহায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের ধর্মান্তরিত করতে না পারে, সেদিকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।’
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ৬ অক্টোবর শুক্রবার লালদীঘি ময়দানে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে মহাসমাবেশ সফল করার জন্য জুনায়েদ বাবুনগরী আহ্বায়ক করে ২১ সদস্যের একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হেফাজত মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী, নায়েবে আমির মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলাম, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা সলিমুল্লাহ, মাওলানা লোকমান হাকীম, অর্থসচিব মাওলানা আইয়ুব, মাওলানা ফোরকান আহমদ, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা মঈনুদ্দিন নানুপুরী,হাটহাজারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির প্রমুখ।
আরও পড়ুন-
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ভিত্তি হবে ১৯৯২ সালের ঘোষণা: মিয়ানমার

রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে রাখাইন পরিদর্শনে গিয়েও ‘মানবিক বিপর্যয়’ দেখলেন কূটনীতিকরা