‘পারমাণবিক অস্ত্রকে যুদ্ধে নয়, মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে চাই’

ডা. কামরুল হাসান খান‘হেলথ ইফেক্টস অব নিউক্লিয়ার উইপনস- এর রেডিয়েশন বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। কোনও জায়গায় এই বোমা বিস্ফোরিত হলে মানুষ বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হতে পারে। মৃত্যু ছাড়াও ক্যান্সার, পঙ্গুত্ব, বন্ধ্যাত্ব হবে নিউক্লিয়ার উইপনস-এর অন্যতম অভিশাপ। অন্যদিকে, এসব নিয়ে যারা কাজ করছেন, তারাও কিন্তু নানা ধরনের শারীরিক ঝুঁকিতে পড়ছেন। এসব মাথায় রেখেই সামনের দিনগুলোতে কাজ করতে চাই। চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিভাগে মানুষের সুস্থতায় নিউক্লিয়ার উইপনসকে কিভাবে ব্যবহার করা যায়,সেসব নিয়ে ভাবতে হবে এখন থেকেই।’ এ বছর শান্তিতে ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস (আইসিএএন) নোবেল পুরস্কার পাওয়ায় বাংলা ট্রিবিউনকে এভাবেই নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন অধ্যাপক ডা.কামরুল হাসান খান। তিনি একাধারে আইক্যানের সহসভাপতি ও পিএসআর (ফিজিসিয়ানস ফর সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটিস) এর সভাপতি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

প্রসঙ্গত, এবার শান্তিতে নোবেল পাওয়া ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস (আইসিএএন) হচ্ছে  পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপে প্রচারণাকারী সংগঠনগুলোর একটি জোট। ১০১টি দেশে এই জোট কাজ করে। বাংলাদেশের দু’টি সংগঠন- সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ (বাংলাদেশ অধ্যয়ন কেন্দ্র)  ও  ফিজিসিয়ানস ফর সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি আইক্যানের সদস্য। শনিবার (৭ অক্টোবর) বাংলা ট্রিবিউনকে সাক্ষাৎকার দেন আইক্যানের সহসভাপতি অধ্যাপক ডা.কামরুল হাসান খান । তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ প্রতিহত করতে চাই। আইক্যান নোবেল পুরস্কার পাওয়ায় দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল।’

ডা. কামরুল হাসান খান ডা.কামরুল হাসান খান বলেন, ‘গোটাবিশ্বে একধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। যারা শান্তির পক্ষে কাজ করছেন, এই পুরস্কারে  তারা উৎসাহিত হবেন। মানুষ শান্তির পক্ষে আরও বেশি সম্পৃক্ত হবে। কারণ, গোটাবিশ্বের কিছু সংখ্যক মানুষ বাদে সবাই শান্তির পক্ষে। আইক্যানের পক্ষ থেকে আমরা সিভিল সোসাইটিকে একত্রিত করতে চাই, বিশেষ করে যারা মানবতার পক্ষে কাজ করেন’

কিভাবে এবং কতদিন ধরে আইক্যানের সঙ্গে পিএসআর যুক্ত,  জানতে চাইলে ডা.কামরুল হাসান খান  বলেন, ‘আমি ফিজিসিয়ানস ফর সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটির বাংলাদেশের সভাপতি। ২০০৫ সালে এ সংগঠনটি (পিএসআর) যাত্রা শুরু করে। ওই বছর থেকেই আইপিপিএনডব্লিউ ( ইন্টারন্যাশনাল ফিজিসিয়ানস প্রিভেনশন ফর নিউক্লিয়ার ওয়ার) এর সঙ্গে অ্যাফিলিয়েটেড। আইপিপিএনডব্লিউ  শান্তির জন্য ১৯৮৫ সালে নোবেল পেয়েছে। একদল রাশিয়ান এবং আমেরিকান চিকিৎসক উদ্যোগী হয়ে এই সংগঠনটি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা করে। তখন বিশ্বব্যাপী আমেরিকা এবং রাশিয়ার মধ্যে কোল্ড ওয়ার চলছিল ।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী চিকিৎসকরা তখন এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। আমি ১৯৯০ সালে থেকে এর সঙ্গে যুক্ত আছি। ২০০৬ সালে এই সংগঠনের দক্ষিণ এশিয়ার রিজিওনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হই। আমরা কাজ করছি যুদ্ধ বিরতি নিয়ে। কারণ, যুদ্ধে সবচেয়ে বড় মরণাস্ত্র হলো নিউক্লিয়ার উইপনস। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তাই স্বাভাবিকভাবেই ভালো লাগছে যে, আইক্যানকে নোবেল প্রাইজ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে অনেক ফোন পাচ্ছি। শনিবার অফিসেও অনেকে এসেছেন ফুলের তোড়া নিয়ে। এসবই ভালো লাগার বিষয়। তবে আইক্যান যে নোবেল প্রাইজ পাবে, এ মুহূর্তে সেটা চিন্তা করি নাই। ’

তিনি আরও বলেন, ‘ আইপিপিএনডব্লিউ-এর একটি প্রোগ্রাম হচ্ছে আইক্যান। পৃথক একটি প্রোজেক্ট হিসেবে কাজ করা হয়। নিউক্লিয়ার আন্দোলনে আইক্যান সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১০১টি দেশ আইক্যান এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্বাভাবিকভাবেই আইক্যানের এই পুরস্কারে আমি খুবই খুশি।’

ডা. কামরুল হাসান খান তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে আমরা অনেক কাজ করেছি। গতবছরই ঢাকাতে রিজিওনাল কনফারেন্স হয়েছে। মানুষকে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছি আমরা, মানুষ যেন এ বিষয়ে সোচ্চার থাকেন। পাশের দেশের মুম্বাইতে যদি কোনও বোম ব্লাস্ট হয়, তাহলে ঢাকাতেও তার ইফেক্ট থাকবে। সো ইট উইল বি ম্যাসিভ কিলিং। তাই এ অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। পারমাণবিক অস্ত্র হচ্ছে মানবতাবিরোধী, সভ্যতা বিরোধী। এর বিরুদ্ধে গোটাবিশ্বে আমাদের আন্দোলন আছে। বলতে গেলে এই আন্দোলন করে আমরা দ্বিতীয়বার নোবেল পুরস্কার পেলাম। একই সংগঠনের আরেকটি পৃথক প্রোগ্রাম যে নোবেল পেলো, সেটি আরও আনন্দের বিষয়। সে হিসেবে আমরা আরও বেশি আনন্দিত।’

ডা. কামরুল হাসান বলেন, ‘ফিজিসিয়ানস ফর সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি কী ধরনের কাজ করে, সেটিও অনেকে জানতে চান। এ সংগঠনটি যুদ্ধবিরোধী সব ধরনের কর্মসূচি করে থাকে। স্মল আর্মস ট্রাফিকিংসহ যত ধরনের মারণাস্ত্র রয়েছে, সেসবের বিরুদ্ধে আমরা কাজ করি। পাশাপাশি বাংলাদেশের হেলথ সার্ভিসের উন্নতির জন্য কাজ করছি। রোগী-চিকিৎসকের সম্পর্ক, স্বাস্থ্য বাজেট, শ্রমিকের স্বাস্থ্য নিয়েও পিএসআর কাজ করে যাচ্ছে।’

 

আরও পড়ুন:  শান্তিতে নোবেলের অংশীদার বাংলাদেশের দুই সংগঠনও