প্রসঙ্গত, এবার শান্তিতে নোবেল পাওয়া ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস (আইসিএএন) হচ্ছে পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপে প্রচারণাকারী সংগঠনগুলোর একটি জোট। ১০১টি দেশে এই জোট কাজ করে। বাংলাদেশের দু’টি সংগঠন- সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ (বাংলাদেশ অধ্যয়ন কেন্দ্র) ও ফিজিসিয়ানস ফর সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি আইক্যানের সদস্য। শনিবার (৭ অক্টোবর) বাংলা ট্রিবিউনকে সাক্ষাৎকার দেন আইক্যানের সহসভাপতি অধ্যাপক ডা.কামরুল হাসান খান । তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ প্রতিহত করতে চাই। আইক্যান নোবেল পুরস্কার পাওয়ায় দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল।’
কিভাবে এবং কতদিন ধরে আইক্যানের সঙ্গে পিএসআর যুক্ত, জানতে চাইলে ডা.কামরুল হাসান খান বলেন, ‘আমি ফিজিসিয়ানস ফর সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটির বাংলাদেশের সভাপতি। ২০০৫ সালে এ সংগঠনটি (পিএসআর) যাত্রা শুরু করে। ওই বছর থেকেই আইপিপিএনডব্লিউ ( ইন্টারন্যাশনাল ফিজিসিয়ানস প্রিভেনশন ফর নিউক্লিয়ার ওয়ার) এর সঙ্গে অ্যাফিলিয়েটেড। আইপিপিএনডব্লিউ শান্তির জন্য ১৯৮৫ সালে নোবেল পেয়েছে। একদল রাশিয়ান এবং আমেরিকান চিকিৎসক উদ্যোগী হয়ে এই সংগঠনটি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা করে। তখন বিশ্বব্যাপী আমেরিকা এবং রাশিয়ার মধ্যে কোল্ড ওয়ার চলছিল ।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী চিকিৎসকরা তখন এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। আমি ১৯৯০ সালে থেকে এর সঙ্গে যুক্ত আছি। ২০০৬ সালে এই সংগঠনের দক্ষিণ এশিয়ার রিজিওনাল ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হই। আমরা কাজ করছি যুদ্ধ বিরতি নিয়ে। কারণ, যুদ্ধে সবচেয়ে বড় মরণাস্ত্র হলো নিউক্লিয়ার উইপনস। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তাই স্বাভাবিকভাবেই ভালো লাগছে যে, আইক্যানকে নোবেল প্রাইজ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে অনেক ফোন পাচ্ছি। শনিবার অফিসেও অনেকে এসেছেন ফুলের তোড়া নিয়ে। এসবই ভালো লাগার বিষয়। তবে আইক্যান যে নোবেল প্রাইজ পাবে, এ মুহূর্তে সেটা চিন্তা করি নাই। ’
তিনি আরও বলেন, ‘ আইপিপিএনডব্লিউ-এর একটি প্রোগ্রাম হচ্ছে আইক্যান। পৃথক একটি প্রোজেক্ট হিসেবে কাজ করা হয়। নিউক্লিয়ার আন্দোলনে আইক্যান সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১০১টি দেশ আইক্যান এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্বাভাবিকভাবেই আইক্যানের এই পুরস্কারে আমি খুবই খুশি।’
ডা. কামরুল হাসান বলেন, ‘ফিজিসিয়ানস ফর সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি কী ধরনের কাজ করে, সেটিও অনেকে জানতে চান। এ সংগঠনটি যুদ্ধবিরোধী সব ধরনের কর্মসূচি করে থাকে। স্মল আর্মস ট্রাফিকিংসহ যত ধরনের মারণাস্ত্র রয়েছে, সেসবের বিরুদ্ধে আমরা কাজ করি। পাশাপাশি বাংলাদেশের হেলথ সার্ভিসের উন্নতির জন্য কাজ করছি। রোগী-চিকিৎসকের সম্পর্ক, স্বাস্থ্য বাজেট, শ্রমিকের স্বাস্থ্য নিয়েও পিএসআর কাজ করে যাচ্ছে।’