প্রথম ধাপ সম্পন্ন শেষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম বলেন, ‘স্কিন গ্রাফটিংয়ের কয়েকটি ধাপ রয়েছে। সে হিসেবে মুক্তামনির প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন হলো। আজ হাতটি স্কিন গ্রাফটিংয়ের জন্য উপযুক্ত করা হয়েছে। ফলে মুক্তামনি সুস্থ হওয়া পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু সে গত ১০ বছর ধরে এ হাতটি বয়ে বেড়াচ্ছিল। তাই তার হাতে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলো আমরা রিমুভ করার চেষ্টা করছি। আজ প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী মঙ্গলবারে পরবর্তী ধাপে যাবো। কয়েকটি ধাপে তার পুরো হাতে চামড়া লাগাতে হবে। এ জন্য আরও ২/৩টি অপারেশনের প্রয়োজন হবে। প্রথমবার স্কিন গ্রাফটিংরে ১০ দিন পর পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। তবে আমরা তাড়াহুড়া করে কিছু করবো না। যা কিছু করবো ধীরে ধীরে।’
স্কিন গ্রাফটিং কিভাবে করা হবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগে কয়েকটি অপারেশন করায় হাত অমসৃন অবস্থায় আছে। সেটাকে আগে সমান্তরাল করা হবে। তারপর থাই (উরু) থেকে চামড়া নিয়ে হাতে লাগানো হবে। এটাকেই স্কিন গ্রাফটিং বলে।’
প্রসঙ্গত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাতক্ষীরার ১১ বছরের মেয়ে মুক্তামনি ‘লিমফেটিক ম্যালফরমেশন’ রোগে আক্রান্ত। এই রোগের কারণে তার এক হাত ফুলে গিয়ে দেহের চেয়েও ভারী হয়ে ছিল। গত চার বছর ধরে এই হাতের ‘বোঝ’ বয়ে বেরিয়েছে মুক্তামনি। শরীরের অসহ্য যন্ত্রণায় তার স্বাভাবিক কোনও জীবন ছিল না। এই রোগের সঙ্গে সে রক্তশূণ্যতা ও অপুষ্টিতেও আক্রান্ত ছিল।
মুক্তামনির চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সব সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার একত্রিত হয়েছিলেন মুক্তামনির চিকিৎসার পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে আলোচনা করতে। সেখানেই সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন রবিবার থেকে চামড়া লাগানো প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। চামড়া লাগানোর পর মুক্তামনি স্বাভাবিক সব কাজই করতে পারবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন চিকিৎসকরা।
আরও পড়ুন:
আজ কিশোরগঞ্জ যাবেন রাষ্ট্রপতি
রোহিঙ্গা নির্যাতনের দায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সরকারের: কানাডা