হাসপাতালে বহির্বিভাগের পেছন দিকে একটি ওয়ার্ডের করিডোরে নির্জন স্থানে কাঁথা দিয়ে স্ট্রেচারের ওপর ঢেকে রাখা হয়েছে কমলা বেগমকে। কান্নাকাটির লোক তো দূরের কথা, মৃত্যুর পরও কোনও নিকটাত্মীয় নেই তার পাশে। ব্রেন স্টোকে অসুস্থ অবস্থায় শনিবার (৭ অক্টোবার) দুপুরে হলি ফ্যামেলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার।
গতকাল শনিবার বিকাল চারটায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষায় থাকা দুই নারী— রামপুরার শেখ মাকছুদা আখতার ও ধানমন্ডির হোসনে আরা অফিসের ভেতরে কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলছেন। সমাজসেবা কর্মকর্তাকে শেখ মাকছুদা আখতার বলেন, ‘এতদিন তাকে না জেনেশুনেই তার থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। মৃত্যুর পর তার লাশটা অন্তত নিজেরাই দাফন করতে পারবো।’
এরপর থেমে যান সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেলী। নতুন করে ভাবতে থাকেন— কিভাবে লাশটি তাদের হাতে তুলে দেওয়া যায়।
সমাজসেবা অফিসার সোহেলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তির সময় কমলা বেগমের কোনও রেফারেন্স ছিল না। ড্রাইভারের মাধ্যমে বস্তির ঠিকানা পাই। খিলগাঁওয়ের বস্তির ঠিকানা পেয়ে সেখানে তার রুম থেকে ন্যাশনাল আইডি ও বয়স্কভাতার কার্ড পাই। একপর্যায়ে কুমিল্লার শাসনগাছা তার স্বামীর বাড়িতে যাই। সেখানে তার ছেলে মিজানকে মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে বলি। তিনি দায়িত্ব নিতে চাননি। তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে। কমলা বেগমের চিকিৎসার জন্য তার নিকটাত্মীয়রাও কেউ এগিয়ে আসেনি। এখন কমলা বেগমের পরিচিত দুই নারী তার লাশ নিতে চাইছেন।’
গাড়িচালক মাহবুব বলেন, ‘আমি তাকে গত ২০ সেপ্টেম্বর এই হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। খালাম্মা বিকাশের মাধ্যমে তার চিকিৎসার জন্য টাকাও দিতেন।’
রামপুরার কাজী ফজলে রাব্বীর স্ত্রী শেখ মাকছুদা আখতার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রামপুরায় দাই এর কাজ করতেন কমলা বেগম। তখন থেকে তাকে চিনি। তিনি বাড়ি ভাড়ার দিতে পারতেন না। তাই আমাদের খিলগাঁওয়ের রিয়াজ বাগে একটি টিনসেট ঘরে তাকে বিনা টাকায় থাকতে দিয়েছিলাম। তার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ জানতে পেরে তাকে সহযোগিতার জন্য হাসপাতালে এসেছি। এসে দেখি উনি মারা গেছেন। তার এখন কেউ নেই। তার লাশটি পেলে খিলগাঁও কবরস্থানে দাফন করবো।’
পরে শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে হাসপাতালের করিডোরে পড়ে থাকা কমলা বেগমের লাশ নিয়ে যান রামপুরার শেখ মাকছুদা আখতার। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সমাজসেবা অফিসারের সহায়তায় লাশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে পুলিশ।’
হলি ফ্যামেলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের সমাজসেবা কর্মকর্তা সামিয়া ইসমৎ সোহেলী রাত সোয়া ১০টার দিকে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পুলিশের অনুমতি নিয়ে লাশ দাফনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শেখ মাকছুদা আখতার খিলগাঁওয়ে তার (কমলা বেগমের) লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেছেন।