নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীদের হলফনামা দাখিলের বর্তমান বিধানটি বাতিল চেয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শরিক দলটি ১৭ দফা সুপারিশের মধ্যে এ দাবি করা হয়েছে। এদিকে, হলফনামা দাখিলের বিধান বাতিলের দাবি করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। শুক্রবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতের উদ্বেগের কথা জানান টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
জাসদের দাবিকে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকতার অন্তরায় উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিরা যখন শপথ নিয়ে তাদের সম্পর্কে কোনও তথ্য নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করে, তখন তার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়। অন্যদিকে যখন কোনও প্রার্থী তার সম্পর্কে তথ্য প্রকাশে অনীহা প্রকাশ করে, তা প্রকারান্তরে জনমনে সন্দেহের উদ্রেক করে ও জনগণের কাছে তাদের প্রতিনিধিদের সম্পর্কে আস্থার সঙ্কটের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।’
নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে এ ধরনের অযাচিত প্রস্তাবের প্রতি কোনও গুরুত্ব প্রদান না করা। পাশাপাশি আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা হলফনামায় যেসব তথ্য প্রদান করবেন, আইন অনুযায়ী তা যাচাই-বাছাই করে কমিশনের ওয়েবসাইটে জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা।’ এছাড়া কোনও প্রার্থীর হলফনামায় প্রদত্ত তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার অমিল খুঁজে পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে তার প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণাসহ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করারও দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) আইন- ২০০৯ অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামার মাধ্যমে আট ধরনের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আট ধরনের তথ্যের মধ্যে রয়েছে ১. শিক্ষাগত যোগ্যতা ২. বর্তমানে প্রার্থীর বিরুদ্ধে রুজুকৃত ফৌজদারি অপরাধের তালিকা ৩. অতীতের ফৌজদারি মামলার তালিকা ও ফলাফল ৪. প্রার্থীর পেশা ৫. প্রার্থীর আয়ের উৎস (সমূহ) ৬. অতীতে সংসদ সদস্য হয়ে থাকলে জনগণের প্রতি প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণে তার ভূমিকা ৭. প্রার্থী ও তার ওপর নির্ভরশীলদের সম্পদ ও দায়-দেনার বর্ণনা এবং ৮. ব্যাংক বা কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যক্তিগত বা যৌথভাবে এবং এমন কোম্পানি থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ও বর্ণনা যে কোম্পানির তিনি সভাপতি বা নির্বাহী পরিচালক বা পরিচালক।